নওগাঁর রানীনগরে বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে জুঁথি নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে ‘গ্যাস বড়ি’ দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী মোকাদ্দেস আহম্মেদ শুভর (২৩) দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা আর্জিনা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মধ্য পাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী ও নিহত জুঁথির মা আর্জিনা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য তার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বেশ কিছুদিন ধরে যৌতুকের জন্য চাপ বাড়ালে জুঁথি বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে আসে। কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলে স্বামী মোকাদ্দেস আহম্মেদ শুভ ও তার পরিবারের সদস্যরা আবার তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুঁথি মারা যাওয়ার পর ঘটনাটিকে ঢাকা দিতে এবং ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে রূপ দিতে তার মুখে গ্যাস বড়ি ঢুকিয়ে দেয় শুভর পরিবার। এ ঘটনায় রানীনগর থানায় হত্যা ও প্ররোচনার অভিযোগে মামলা (মামলা নম্বর: ৭৫/২৬) দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জুঁথির স্বামী রানীনগরের রাতোয়াল গ্রামের জিয়াউল হকের ছেলে মোকাদ্দেস আহম্মেদ শুভকে (২৩) এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে শুভর মা ইজ্জতুন নেসাকে।
. জুঁথি ও স্বামী শুভ
মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে জুঁথির মা প্রশাসন ও আদালতের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমার চার মাসের নতুন সংসার করা মেয়েটাকে যৌতুকের জন্য ওরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এরপর মুখে বিষ দিয়ে নাটক সাজাচ্ছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আসামি শুভর প্রকাশ্যে ফাঁসি দাবি করছি।”



















