দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্যোগে গঠিত হতে যাচ্ছে ৯-দলীয় বৃহত্তর জোট। যুক্তফ্রন্টের আদলে গড়ে ওঠা এই নতুন জোটের নাম চূড়ান্ত করা হবে ‘নয়া যুক্তফ্রন্ট’ অথবা ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’।
শনিবার ( ২৯ নভেম্বর ) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশন থেকেই এই বৃহত্তর জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদের উদ্যোগে আয়োজিত কনভেনশনে বাম প্রগতিশীল দল, বিভিন্ন গণসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। কনভেনশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে ‘জনতার সনদ’, যা জুলাই জাতীয় সনদের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে প্রকাশ করা হবে।
জোটের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের সক্রিয় বাম প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের সম্মিলনে নতুন জোটটি গঠিত হচ্ছে। লক্ষ্য— একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ। নতুন জোট তিনশ আসনেই ঐক্যবদ্ধভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য শরিক দলগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জোট উদ্যোক্তারা আরও জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার অন্য কয়েকটি দলও পরে যুক্ত হতে পারে। রাজনৈতিক দল না হলেও জনসংহতি সমিতি, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগঠন, সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সমাজ-সংগঠন জোটের প্রচেষ্টায় যুক্ত আছে; নির্বাচনেও এসব সংগঠনের প্রতিনিধি প্রার্থী হতে পারেন।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর নব্য ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাম প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক শক্তির বৃহত্তর ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানান, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাম্য-মানবিক মর্যাদার সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই আমরা বৃহত্তর বাম গণতান্ত্রিক জোটের পথে এগোচ্ছি।”
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, নতুন জোট নির্বাচন ছাড়াও ‘জনতার সনদ’ ভিত্তিক জনজীবনের সংকটসমূহের সমাধানে মাঠে থাকবে।
আজ সকাল ১০টা থেকেই শুরু হচ্ছে জাতীয় কনভেনশন। এখান থেকেই ঘোষণা মিলবে দেশের বাম রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন বৃহত্তর জোটের।



















