রাজধানীর হাজারীবাগে একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জান্নাতারা রুমি(৩০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ(ধানমন্ডি থানার) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।
বুধবার(১৮ ডিসেম্বর)ভোররাত ৪টার দিকে হাজারীবাগ জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার ২৫/৭/১ রোডে জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোঃ কামরুজ্জামান জানান,আমরা খবর পেয়ে জিগাতলাপুরাতনকাঁচাবাজার২৫/৭ / ১ রোডে জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আমরা ওই হোস্টেলের কাজের বুয়া থেকে জানতে পেরেছি,রুমের দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়।পরে ভেতরে ঢুকে দেখতে পায় সিলিংফ্যানে সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান,নিহত নারীর দুইবার বিয়ে করেছেন প্রথম স্বামীর ঘরে তার একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি,নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোঃ জাকির হোসেন ও মা নুরজাহান বেগমের মেয়ে।বর্তমানে, হাজারীবাগের জিগাতলার পুরাতন কাঁচাবাজার২৫/৭/১রোডে জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলায় থাকতো। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহতের সাবেক স্বামী মোঃ বিপ্লব সরকার জানান,তার সঙ্গে ৪/৫মাস আগে জান্নাতারা রুমির ডিভোর্স হয়।আগে তার আরেকজন স্বামী ছিলেনওসেখানেও ডিভোর্স হয়েছিল। তিনি বলেন,আমার সঙ্গে বিয়ের পর আমরা নওগাঁর নজিপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম। প্রথম স্বামীর ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে,নাম মুনতাহা, আমার সঙ্গে সংসারে তার সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে,আয়মান,একদিন সে আমাকে বলে,তুমি ঘর থেকে বের হয়ে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই। এরপর গত ৩/৫ মাস ধরে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান,রুমি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। (৫আগস্টের)বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন,পরবর্তীতে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরে পুলিশ ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানায়।
নিহতে খালাতো ভাই মোসোয়েইব হোসেন জানান,রুমি ঢাকায় ওই ছাত্রী হোস্টেলে একাই থাকতেন।তার দুইটি সন্তান রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে।তারা দু’জনই নওগাঁয়ের গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। তিনি বলেন, ঢাকায় সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতো। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।পরে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়।



















