টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Monday , 30 March 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্ধকার চোখে, তবুও আলোর খোঁজে—রমেশের লাঠিই এখন জীবনের ভরসা

প্রতিবেদক
এস এ ডিউক ভূইয়া
March 30, 2026 6:02 pm

চোখে আলো নেই, কানে পৌঁছায় না মানুষের ডাক—তবুও থেমে নেই তাঁর জীবন। অন্ধকারকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করেন রমেশ চন্দ্র মজুমদার। হাতে একটি লাঠি, তাতেই ভর করে এগিয়ে চলা—এ যেন এক মানুষের নয়, এক অদম্য সাহসের গল্প।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার চাপাতলী গ্রামের এই ৬০ বছর বয়সী মানুষটি আজ দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি প্রায় হারিয়েও জীবনের কাছে হার মানেননি। বরং প্রতিটি দিন তাঁর কাছে নতুন সংগ্রামের, নতুন চ্যালেঞ্জের।

প্রায় ১৫ বছর আগে নিভে যায় তাঁর চোখের আলো। ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে শ্রবণশক্তিও। কিন্তু জীবনের দায় তো থেমে থাকে না। সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে—দুই মেয়ের বিয়ে দিলেও একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন একটু স্বচ্ছলতার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন টেকেনি। ছেলেটি ফিরে এসেছে, এখন বেকার। ফলে সংসারের পুরো ভার এসে পড়ে রমেশের কাঁধে—একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কাঁধে।
তবুও ভিক্ষা নয়—পরিশ্রমই তাঁর একমাত্র ভরসা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

শরীর যতটুকু সাড়া দেয়, ততটুকুই নিয়ে লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। লক্ষ্মীপুর, মালিগাঁও, বাঁশরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের গাছের ডালপালা কাটেন। নারিকেল, তালসহ বিভিন্ন গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডাল কাটতে হয় তাঁকে। চোখে দেখতে পান না, কিন্তু হাতের স্পর্শই হয়ে উঠেছে তাঁর দৃষ্টি। লাঠির সঙ্গে যন্ত্র বেঁধে ধীরে ধীরে কাজ করেন—এক ধরনের নীরব দক্ষতা, যা শুধু অভিজ্ঞতাই শেখাতে পারে।
দিন শেষে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো আয়—এতেই কোনোভাবে চলে তাঁর সংসার।

স্থানীয়দের চোখে তিনি শুধুই একজন শ্রমজীবী মানুষ নন, বরং আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এত কষ্ট, এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি কখনো ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু এই লড়াইয়ের মাঝেও রয়েছে এক গভীর অসহায়ত্ব। তাঁর চোখের চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো আবারও ফিরে পেতে পারেন আলোর কিছুটা আভাস। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই সম্ভাবনাও আজ দূর স্বপ্ন হয়ে আছে।

রমেশের গল্প শুধু একজন মানুষের গল্প নয়—এটি আমাদের সমাজেরও প্রতিচ্ছবি। যেখানে একজন মানুষ অন্ধকারে থেকেও আলো খোঁজেন, কিন্তু আমরা অনেকেই সেই আলো হয়ে পাশে দাঁড়াতে পারি না।
আজ প্রয়োজন একটু মানবিকতা, একটু সহমর্মিতা।
সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রবাসী ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তার হাত যদি এগিয়ে আসে, তবে হয়তো রমেশ চন্দ্র মজুমদারের জীবনে আবারও জ্বলে উঠতে পারে আশার আলো।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

নাসিরনগরে ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

তেহরানে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক

শোক বার্তা

ট্রাম্প প্রশাসনকে আমি ভয় পাই না: পোপ লিও

চ্যাম্পিয়নদের পাশে আছি, আরেকটি লড়াইয়ের অপেক্ষা: পূর্ণিমা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার তেল রাজস্ব বেড়ে দ্বিগুণ: রয়টার্স

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বামীকে ফাঁসাতে স্ত্রীর মিথ্যা অপহরনের মামলা। বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণায় থাকছেন ৭০০ সাংবাদিক

বিমান দুর্ঘটনায় সর্বশেষ আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ইতি চিকিৎসাধীন মৃত্যু