টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Saturday , 23 May 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে তালের শাঁসের ব্যবসা জমজমাট, সবার পছন্দের তালিকায় এই মৌসুমী ফল

প্রতিবেদক
খ ম জায়েদ হোসেন
May 23, 2026 1:49 pm

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় জমে উঠেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৌসুমী ফল খোলা আকাশের নীচে বিভিন্ন ফুটপাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে
তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকটি তালের শাঁসের দোকানে সব বয়সী ক্রেতাদের ভিড় থাকছে নিত্যদিন।

উপজেলা সদর সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারসহ গুরুতপূর্ণ জনবসতি স্থানে প্রতিদিন কাঁচা তাল নিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি পিস তালের শাঁস (কাঁচা তাল) বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

সুস্বাদু এ ফলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক। জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু ফল এ সময়ে গাছে ধরে। এ মাসে ভিন্নধর্মী একটি রসালো ফল যা অতি পরিচিত তালের শাঁস। তাল ফলের নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু। গ্রাম্য ভাষায় এটি ‘তালকুর’ নামে বেশি পরিচিত। প্রচন্ড গরমে তালের এই শাঁস শহর ও গ্রাম সর্বত্রই মানুষের কাছে খুবই সুস্বাদু।

মিজান নামে একজন ক্রেতার সাথে কথা হয় তিনি বলেন, আগের মত তাল পাওয়া যায় না। আগে রাস্তার পাশে তালের রস নিয়ে বসত, সেটি এখন আর দেখা যায় না। এখন কাঁচা তালের শাঁস খাচ্ছি। কিছুদিন পর এটিও পাওয়া যাবে না। কারণ যেভাবে তালের গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে তাল গাছ শূন্য হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। আগে ৪০-৫০ টাকায় এক হালি (৪টি) তাল পাওয়া গেলে এখন লাগছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

তালের শাস কিনতে আসা আব্দুর রহমান তাঁর বলেন, তাল একটি মৌসুমি ফল, এটি অনেক সুস্বাদু ও উপকারী। তাল গাছ কমে যাওয়ায় আগের থেকে এখন দাম বেশি। তালের স্বাদ ধরে রাখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সরকারিভাবে তাল গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া উচিৎ।

মৌসুমি ফল তালের শাঁস বিক্রেতা রফিক মিয়া বলেন, চার বছর ধরে তালের শাঁস বিক্রির ব্যবসা করছেন। আমাদের এলাকায় কাঁচা তাল তেমন পাওয়া যায় না, তাই দুর- দুরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য  দাম একটু বেশি। এ বছর ব্যবসা ভালো হলেও তালের দাম বেশি এবং তাল পাওয়া যাচ্ছে না।

এক যুগ ধরে তালের শাঁস আরেক বিক্রেতা বলেন, আগে এক ছড়া কাঁচা তালের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন সেই ছড়া কিনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। এ কারণে খুচরা বিক্রিতেও দাম বেড়ে গেছে।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসাইন বলেন, “তালের শাঁস যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর। তালের রস দিয়ে গুড় ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণে তালগাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে।” তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বজ্রপাত সহনশীল গাছ হিসেবে তালগাছের চারা রোপণের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কৃষি বিভাগও মানুষকে বেশি বেশি তালগাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগের মতে, গ্রামাঞ্চলে মানুষ তালগাছের গুরুত্ব না বুঝে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছে। বছরে মাত্র একবার ফলন হওয়া এবং আর্থিক লাভ কম হওয়ায় অনেকেই তালগাছ সংরক্ষণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তালগাছ শুধু ফলের জন্য নয়, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য তালগাছ সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ক্ষয়ক্ষতির গোপন রিপোর্ট ফাঁস,মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা ছিল ধারণার চেয়েও ভয়াবহ

পুরান ঢাকার এলাকার একটি বাসা থেকে থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার ঋণ ৯০ শতাংশ,২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

নাসিরনগরে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি টালমাটাল সবজির বাজার

পরকীয়া জেলা স্বামী স্ত্রীর নিহত

ওয়াসা লাইনে কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে নিহত ১ আহত ১

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয় জন নিহত

অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ,‘ওসমান হাদিকে, নেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ারে

ঢাবিতে বজ্রপাতে দুইশিক্ষার্থী আহতঢামেকে চিকিৎসাধীন

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি’র ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি

দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন নির্দেশনা