লালমনিরহাটের বড়বাড়ি পঞ্চ গ্রাম ইউপি’র ডিলার উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (২৬) পিতা, সুধাংশু রায়, প্রাণ আরএফএল (জুস গ্রুপ) এর একজন স্হানীয় ডিলারের অপেশাদার আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে , গত ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল, মে- ২০২৬ ইং এর মধ্যে তিন জন ‘সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (এসআর) ডিলার উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ের অপেশাদার আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের কারণে চাকরি হারিয়েছেন এবং ঐ ডিলারের অধীনে কর্মরত ডেলিভারি ম্যান এবং সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা (এসআর) একজোট হয়ে তাকে অপসারণের জন্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মুঠো ফোনে দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগকারী সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) জাহাঙ্গীর আলম (২৮) জাফর আলি (৩৪) রেজাউল হক (৩৭) সংশ্লিষ্ট ডিলার দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে আসছেন। তুচ্ছ ঘটনায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের সবার সামনে গালিগালাজ করা এবং অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা তার নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ফিল্ডে কাজ করা এসআর-রা যখন টার্গেট পূরণ করার জন্য ডিও রেডে সেলস করার কথা বলেন এবং ডিও রেডে সেল করেন, এবং প্রতিদিনের হিসাব ঠিক রাখে না, মাস শেষে ম্যামো দেখে ভুলভাল হিসাব করে ‘এসআর’দের উপর ‘কমিশনের’ টাকা দাবি করেন। তার দিনের হিসাব ঠিক মতো না করে ‘এসআর’দের কাছে অযুক্তিকর টাকা দাবি কর হয়। সেই টাকা দিতে অশীকার করেন তার পর ডিলার ব্যক্তিগতভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ মারধরের কথা বলেন, এবং এসআর’রা বিফাকে পড়েন এবং চাকরিচুত্ব হন।
কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, একজন ডিলার আমাদের অভিভাবক সমতুল্য হওয়ার কথা, কিন্তু তিনি আমাদের সাথে এমন আচরণ করেন যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার নিয়মিত গালিগালাজ এবং মানসিক চাপের কারণে সুস্থভাবে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরও ডেলিভারি ম্যানরা অভিযোগ করেন, মালামাল লোড-আনলোড থেকে শুরু করে হিসাবের সামান্য হেরফেরেও ডিলার তাদের গায়ে হাত তোলার হুমকি পর্যন্ত দেন।
ডিলারের এমন স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে কর্মীরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সম্মান নিয়ে কাজ করার পরিবেশ না থাকলে তারা আর এই ডিলারের অধীনে ডিউটি করবেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রাণ কোম্পানির এরিয়া সেলস ম্যানেজার (এএসএম) বরাবর মুঠো ফোনে অভিযোগ করা হয়েছে। কর্মীদের স্পষ্ট দাবি অনতিবিলম্বে এই ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন এবং মার্জিত আচরণের কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে, অন্যথায় এই এলাকায় কোম্পানির পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রাণ কোম্পানির এরিয়া সেলস ম্যানেজারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কোম্পানির সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কর্মীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয়।



















