টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Friday , 17 July 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ, খরচ-শ্রমিক সংকটে হাসি নেই কৃষকের

প্রতিবেদক
ফরিদপুর প্রতিনিধি
July 17, 2026 8:47 pm

দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন।

তবে বাজারে পাটের দাম তুলনামূলক ভালো থাকলেও উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক সংকট এবং পাট কাটার অতিরিক্ত খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে শেষ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট ও আড়তে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ দাম মোটামুটি সন্তোষজনক।

কিন্তু কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই দামে লাভ খুবই সীমিত।
বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক নুর আলম বলেন, পাটের দাম আগের তুলনায় ভালো হলেও সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে যে খরচ হয়, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদামে তেমন লাভ থাকে না। প্রতি কাটা জমিতে গড়ে আধা মণ পাট উৎপাদন হয়। অন্তত প্রতি মণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে কৃষক কিছুটা স্বস্তি পেত।

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক আলিম মোল্লা বলেন , সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শ্রমিক সংকট। সময়মতো পাট কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পাট বেশি বড় হয়ে গেলে আঁশের মানও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক শহিদ খান বলেন, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো, সব মিলিয়ে অনেক শ্রমসাপেক্ষ কাজ। এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এত খরচ করে পাট চাষে খুব বেশি লাভ থাকে না।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও পাট জাগ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। তবে অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ, শ্রমিকের অভাবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে। অনেকেই বিকল্প পেশায় চলে যাওয়ায় মৌসুমি শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরিদপুরের পাট আড়ৎদার সুজন মাতুব্বর বলেন, এবার বাজারে ভালো মানের পাট আসছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এবং দেশের বিভিন্ন পাটকলের ক্রয় কার্যক্রমের ওপর দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে।

তিনি বলেন, কৃষকেরা যদি ভালোভাবে পাট শুকিয়ে বাজারে আনেন, তাহলে উন্নত মানের পাটের দাম আরো বেশি হওয়া দরকার।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর উদ্যোগে বিনামূল্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

কুমিল্লায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক-১১

উত্তরায় বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ৮

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সৌদিকে ধন্যবাদ জানালো ইরান

উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের বাসা দখলের অভিযোগ

বাবুগঞ্জের জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা

দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞায় আবুল কালাম আজাদ ও শিবলী নোমান

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুইজনের ফাঁসি কার্যকর করলো ইরান

কুমিল্লায় ট্রেনে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ