দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে নতুন সাজে ফিরতে যাচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও উন্নয়নবঞ্চনায় থাকা স্টেডিয়ামটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের এই বরাদ্দের খবরে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘যশোর জেলা শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের সমুদয় বরাদ্দ সরকারি উন্নয়ন বাজেটের অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠন করে প্রয়োজনীয় জনবলের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো এবং প্রচলিত সব আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রকল্পটির অর্থায়নের বিষয়ে সম্মতির জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অর্থ বিভাগের সম্মতির পর এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৫ সালের পর স্টেডিয়ামটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নকাজ না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অবকাঠামো ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই ক্রীড়া স্থাপনাটি অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল স্টেডিয়ামটির আধুনিকায়ন।
এরই মধ্যে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়। ওই সময় স্টেডিয়ামের উন্নয়নে বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এমনকি জনসভাকে কেন্দ্র করে ভেঙে ফেলা গ্যালারিটিও দীর্ঘদিন মেরামত করা হয়নি। পরে ২০২৫ সালে পরিত্যক্ত অংশটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে সেখানে ফাঁকা জায়গা পড়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার পর স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ায় নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, যশোর জেলা শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ।’ যশোরের উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অস্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, ‘চিরাচরিত কথা আছে—ভাঙতে পারে সবাই, গড়তে পারে না কেউ। কয়েক বছর আগে জনসভার জন্য যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। অথচ সেটি গড়ে তোলার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার। এ জন্য যশোরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’



















