টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Sunday , 27 April 2025 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারে অতিষ্ঠ জনগণ, সমাধান কোথায় ?

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
April 27, 2025 9:49 am

রাজধানী সহ সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে চাঁদাবাজি, হত‍্যাকান্ড, সন্ত্রাসী, রাহাজানির মহড়া। এসব সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ আটক হলেও অধিকাংশই রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবমিলিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ, রীতিমতো আতঙ্কে দিনপার করছেন ভুক্তভোগী পরিবার গুলো। তবে দীর্ঘ ১৫-১৭ বছর যাবত যারা এমন সন্ত্রাস চালিয়ে আসছে, তাদেরকেও ধরতে না পারার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, ভাষানটেক সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এক আতঙ্কের নাম কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাহীন শিকদার। যার ভয়ে কোনো মামলা তো দূরের কথা- অভিযোগ করতেও সাহস পায় না সাধারণ মানুষ।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়। বিগত সময়ের তুলনায় সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কাফরুল, ভাষানটেক, পল্লবী সহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মানুষ হত্যা, ডাকাতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। চাঁদা না দিলে গুম, খুন, হত্যার চেষ্টার আতঙ্কে আছে অসংখ্য পরিবার। অবশেষে বাধ্য হয়ে তারা সাংবাদিকদের কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

অভিযোগ এসেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধানীতে বিভিন্ন ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে পরিনত করেছে শাহীন শিকদার নামের এক সন্ত্রাসী। অবশ্য শাহীন শিকদার নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করেন তার টার্গেটকৃত লোকজনকে। এতেই আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে যায় ভুক্তভোগীদের। আর এসব অপকর্মে সহায়তা করে মিরপুর, কাফরুলের অসংখ্য গ্যাং।

নাম পরিচয় গোপন রেখে শাহীন শিকদারের ভয়াল অধ্যায়ের বর্ণনা করেন অসংখ্য মানুষ। শুধুমাত্র মিরপুর, কাফরুল, ভাষানটেকেরই ১৯ জন ভুক্তভোগী তাদের দুর্দশার কথা গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এক ভুক্তভোগী বলেন, “শাহীন শিকদার কিছু নাম্বার থেকে ফোন করে প্রায়ই চাঁদা চায়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পরিবারের বাচ্চা কিডন্যাপ, খুন করার মত হুমকি দেয়। দলবল নিয়ে ঘরে এসে কুপিয়ে যাবে বলে নানা রকমভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। কাফরুল এলাকার অনেক পরিবার আছে যারা গোপনে চাঁদা দেয় শাহীনের হুমকির ভয়ে। এমনকি থানায় মামলা বা অভিযোগ করলে থানা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই ফোন করে, মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। অর্থাৎ পুলিশের মধ্যেও তার সোর্স আছে।”

আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “শাহীন শিকদারের বড় একটা গ্যাং চাঁদাবাজির নেপথ্যে কাজ করে। বিভিন্ন অভিজাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকায় তার সোর্স বা ইনফরমার আছে। কাফরুলে কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় মৃত্যুর ভয় নিয়েই কাফরুল থানায় মামলা করেছে তারা। মামলার আলোকে শাহীন সিকদার গ্যাংয়ের দুই আসামি রবি শেখ ও জুম্মনকে আইনের আওতায় আনা হয়। তবে তার দলের মুরাদ, বিপ্লব, অভি, হেলেনা, বাচ্চু, মিরপুর ১১ স্বর্ণপট্টি বিহারি ক্যাম্পের আসিফ সহ অনেকে পলাতক আছে। মূলত আসিফ টাকা ছিনতাই করলে তার পরিবার চালাকি করে আসিফকে বাঁচাতে রিহাবে পাঠিয়েছে।
শাহিন সিকদার কিছুদিন আগে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়েছে। তবে শাহীনকে ভারতের জেল থেকে বাংলাদেশে এনে তাকে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সহ সাধারণ মানুষ। কারণ সে ছাড়া পেলেই অভিযোগকারী সবাইকে মেরে ফেলবে।”

একান্ত নির্জনে মুখ ঢেকে, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাংবাদিকদের হাত ধরে অনুরোধ করে ৪ জন ভুক্তভোগী বলেন, শাহীন ও তার গ্যাংয়ের নামে খুনসহ ৫০ টিরও বেশি মামলা আছে। বিদেশ থেকে ফোন করে চাঁদা চেয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে শাহীন। তার কথায় রাজি না হলে দেশে তার গ্যাং দিয়ে হামলা, মারধর করা, কুপিয়ে জখম করাই এদের কাজ। এমনকি মেরেও ফেলে। শাহীন ও তার গ্যাংয়ের উপযুক্ত শাস্তি হলে কাফরুল ভাষানটেক সহ রাজধানীবাসি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আপনারা আমাদেরকে বাঁচান ভাই।”

একজন মা তার সন্তানকে কুপিয়ে জখম করার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, “শাহীনের দুইজন সন্ত্রাসী জেলখানার ভিতরে যাওয়ার পর বাকি সদস্যরা আরও তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সাজাপ্রাপ্ত আসামী যারা জেল থেকে জাবিন পায় তাদেরকে দিয়ে শাহীন সিকদার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হত্যা, জখম, চাঁদাবাজী, মাদক চোরাকারবারী সহ যত ধরনের অপকর্ম আছে তা পরিচালনা করে। অর্থাৎ জেল থেকেও শাহীন সিকদার টার্গেটকৃত আসামীদের টাকা পয়সা দিয়ে অপকর্ম করায়। বিভিন্নভাবে যারা মামলা করেছে তাদের জীবনকে বিষন্ন করে তোলে এরা। সবসময় মানুষকে হুমকি-ধান্তির মধ্যে রাখে। তাদেরকে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক- যাতে আর কখনো মানুষ হত্যা করার মত কোন কার্যক্রম না করতে পারে। ভুক্তভোগীদের দাবী তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি কার্যকর করা হোক।

কাফরুলের এক হোটেল ব্যবসায়ীর আত্মীয় বলেন, “শাহীন ভারতে আটক হয়েছে। তাই হয়তো কিছুদিন আমরা একটু স্বস্তিতে আছি, তবুও তার চেলাপেলা, গ্যাং থেমে নেই। বড় কথা হলো ও (শাহীন) যদি এবার ইন্ডিয়া থেকে ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে কাফরুল, ভাষানটেক, মিরপুরের জনগণকে কুপিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে তুলবে। কারণ আমরা কিছু মানুষ থানা ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করাই ওরা ব্যাপক ক্ষিপ্ত। মানুষের সাধারণ জীবন ব্যাহত করে ফেলবে এটা নিশ্চিত। তাই আমরা চাই, শাহীন শিকদারের মতো জঘন্য অপরাধীর আইনের আওতায় এনে ফাঁসির ব্যবস্থা করা হোক।”

কিছু মহিলা ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “কাফরুলে পুলিশ স্টাফ কলেজ সংলগ্ন, পুলিশ কনভেনশন হলের পাশে জিরো পয়েন্টে সন্ত্রাসী জুম্মনের মা জরিনার একটা চায়ের দোকান আছে। জুম্মনের মা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করতে তার ছেলেকে সাহায্য করে। এমনকি ছুরি, চাপাতি, দেশীয় অস্ত্র ওই জরিনার দোকানেই থাকে। মূলত ছোট দোকানটার আড়ালে জরিনা সেখানে ইয়াবা, গাজা সহ মাদক বিক্রি এবং অনেক যায়গায় সাপ্লাই দেয়। সেখানে মিরপুর ১১, স্বর্নপট্টি সংলগ্ন বিহারি ক্যাম্পের আসিফ নিয়মিত যাতায়াত করে। ওখানে থেকে বিহারি আসিফ মাদক নিয়ে নিজে সেবন করে এবং মিরপুর বিক্রি করে। বিশেষ করে মিরপুর ১১ ডুইপ প্লটে হেরোইন মোস্তাকের ছেলে ইয়াবা সুমন ও তার ভাইদের কাছে মাদক পাঠায় আসিফ। আসিফ লোকজনকে বলে- ও (বিহারি আসিফ) নাকি সেকেন্ড থানা। শাহীনের এসব সন্ত্রাসী বিভিন্ন ব্যক্তিকে, কুপানো, মারধর করা, জিম্মি করা, কিডন্যাপ করার কাজ করে থাকে। তারা চুক্তিতেও মানুষ কোপায়। কি ভয়ংকর বিষয় ভাবা যায় ?”

২২ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী বলেন, “ভাই শাহীনের লোক শুধু কাফরুলে না, পুরো মিরপুর জুড়েই আছে। আমি মিরপুর ১১ প্যারিস রোডের পাশে কাইল্লার বস্তির মাঠ বা বর্তমান যে খেলার মাঠ আছে, ওখানে যায়। মিরপুর ১১, স্বর্নপট্টির ওই বিহারি আসিফ তার সাথে থাকা ৩ জনকে নিয়ে আমাকে মারধর করে আমার মানিব্যাগ, দুইটা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আসিফের সাথে মুরাদ ও জুম্মনও ছিলো। সেখানে অনেকে আসিফকে দেখলেও ভয়ে কেউ আমাকে সাহায্য করেনি। এমনকি মিরপুর ১৩ তে ইয়াবা আসিফ বা হিরোন্সি আসিফ তার ৩ জন লোক নিয়ে আবারও একদিন আমাকে ধরে। ওইদিন ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লোকজন চলে আসলে ২ হাজার নিয়ে দৌড় দেয় আসিফ। আপনি জানলে অবাক হবেন- আসিফ পল্লবী থানার পুলিশকে ভাঙিয়ে বলে ” আমি সেকেন্ড থানা”। পুলিশের কাছে গিয়ে বলিস আসিফ ধরেছে। অর্থাৎ সব যায়গায় শাহীনের লোক আছে।”

ঠিক এভাবেই অসংখ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন সন্ত্রাসী শাহীনের বিরুদ্ধে। তবে পরিবার ও নিজের জীবনের ভয়ে সরাসরি থানা বা সাংবাদিকদের কাছে তারা অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না। তারা গোপনে মিডিয়ার মাধ্যমে এই অভিশাপ থেকে পুলিশের সাহায্য কামনা করছে।

খুবই অবাক করার বিষয়- ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শাহীন রাজধানীর এক ব্যক্তিকে সরাসরি ফোন করে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এমন কয়েকটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে শাহীন চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়ে বলছে; “আপনি কিন্তু দেরি করছেন, আপনার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কথা না শুনে দ্রুত আমার সাথে যোগাযোগ করেন, দেখা করেন। টাকা দিয়ে দেন তাহলে আর সমস্যা হবে না। আপনি এমপি, মন্ত্রী, প্রশাসন যা-ই করেন না কেনো, কোনো লাভ নেই। দেখেন প্রধান উপদেষ্টারে আমারে ফোন দিয়াইতে পারেন নাকি… তবুও কোনো লাভ নেই। কথা না শুনলে ক্ষতি কিন্তু আপনি ও আপনার পরিবারেরই হবে। এর আগে যারা আমার কথা শুনেনি, তারা কেউ মেডিকেলে গেছে, কেউ কবরে গেছে। পরে মেডিকেল দেয় ২০ লাখ, আমারে দেয় ৩০ লাখ। আপনার কাছে কমই চাইছি, ৫০ লাখ। তাই ভালোই ভালোই আমার সাথে যোগাযোগ করেন, টাকা দেন।”

ঠিক এভাবেই টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছে ফোন করে সরাসরি চাঁদা চাই শাহীন। চাঁদা না দিলে মারপিট, কুপিয়ে জখম করা, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা ও হামলা, স্ত্রী সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি সহ নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে শাহীন ও তার গ্যাং।

সম্প্রতি কাফরুল থানা পুলিশ শাহীনের দুই গ্যাং সদস্যকে আটক করে। জানতে চেয়ে কাফরুল থানার এসআই শরিফুজ্জামান শরিফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এমনকি তিনি পরবর্তীতে ফোনকল ব্যাকও করেন নি।

দর্শক এটা ছিলো শাহীন ও তার গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাসের কিছু নমুনা মাত্র। যেখানে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ শাহীন ও তার গাংয়ের সবার ফাঁসি চান। ভারতের জেল থেকে ছাড়া পেলেও শাহীন যেনো বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে তারা পুলিশের সহায়তা চান। এই পর্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদার ও তার সন্ত্রাসী গ্যাংদের কালো জগতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। কারণ প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের পরও ভারতীয় বিভিন্ন নাম্বার থেকে ভুক্তভোগীদের কাছে ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী।

     >>সন্ত্রাসীদের পরিচয়>>

নাম: “সন্ত্রাসী রবি শেখ”
পিতা- মৃত কুরবান শেখ, মাতা- জরিনা বেগম, স্ত্রী- তাসলিমা, পেশা- ড্রাইভার (আড়ালে সন্ত্রাসী), জন্ম তারিখ- ১৩.০৫.১৯৮৭ জাতীয় পরিচয় পত্র- 19872693014027960 স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- শেখপাড়া, পোস্ট অফিস- বানরগাতী, থানা- সোনাডাঙ্গা
জেলা-খুলনা। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- সেনপাড়া পর্বত, বাসা নম্বর ৫৮৪/২ ইসলামী ব্যাংক গলি, এক নম্বর বিল্ডিং, থানা- কাফরুল, জেলা ঢাকা, বাংলাদেশ।

সন্ত্রাসী রবি শেখের সন্ত্রাসের ধরণ: দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে কাজ করছে। টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কোপানো, জিম্মি, অপহরণ, মাদক চোরাচালান, নারী কেলেংকারী সহ নানা অপকর্মে জড়িত রবি শেখ।

নাম: “সন্ত্রাসী আসিফ”
বাবা: ইসতিয়াক, মাতা: পিচ্চি, ক্যাম্পের ঠিকানা: এফজি ক্যাম্প, স্বর্ণপট্টি সংলগ্ন, মিরপুর ১১, ঢাকা।

সন্ত্রাসী আসিফের সন্ত্রাসের ধরণ: শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের সাথে কাজ শুরু করে ২০০৯ সালে। অর্থাৎ কিশোর বয়সেই আসিফের সন্ত্রাসীর হাতেখড়ি। কিশোর গ্যাংদের নিয়ে শাহীন শিকদারের সকল অপকর্মের অন্যতম হোতা আসিফ ও তার গ্যাং। আসিফ ছাড়াও তার গ্রুপে রয়েছে আরও ১৭ জন সদস্য। যাকে সবাই ডেঞ্জার সেভেন্টিন বলে। অথচ সন্ত্রাসী আসিফ তার গ্রুপকে লাকি সেভেন্টিন বলে।

সন্ত্রাসী আসিফ মিরপুর অঞ্চলে একজন মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তাকে সবাই ইয়াবা আসিফ বলেই ডাকে। তবে এই সন্ত্রাসী আসিফ সবখানে নিজেকে সেকেন্ড থানা বলে পরিচয় দেন। কারণ পল্লবী থানার কয়েকজন পুলিশকে সে ও তার পরিবার নিয়মিত মাসোয়ারা দেন। সাথে তার বোন শারমিন দেহব্যবসার মাধ্যমেও পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া আসিফ ভয়ংকর একজন ছিনতাইকারী। যেকোনো সময় যেকোনো যায়গায় ছিনতাই করতে তার কলিজা কাপে না। এমনকি মিরপুর ১১ স্বর্ণপট্টি লাইনে অনিক টেলিকম নামক বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে দিনেদুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে আসিফ। আর দামি মোবাইল, গহনা, টাকা, মানিব্যাগ ইত্যাদি ছিনতাই করা আসিফের কাছে নৈমিত্তিক ঘটনা।
স্থানীয়দের মতে আসিফ পুরো মিরপুর জুড়েই ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সে মিরপুর ১৩ চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুম্মন শেখের মা জরিনা বেগম, মিরপুর ১১ ডুইপ প্লটের হেরোইন সম্রাট মোস্তাক ও তার ছেলে ইয়াবা সুমনদের সাথে নিয়মিত ইয়াবা ও মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত মিরপুর এলাকার প্রতিটি বিহারি ক্যাম্পে সন্ত্রাসী আসিফ ও তার গ্যাং মাদক ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

সন্ত্রাসী আসিফ ও তার ভয়ংকর পরিবার:
সন্ত্রাসী বিহারি আসিফ নিজে একজন ছিনতাইকারী, ইয়াবা সেবন ও চোরাকারবারি, ভয়ংকর সন্ত্রাসী চক্রের হোতা। কিন্তু তার পরিবারের মাফিয়া চক্র আরেক ধাপ এগিয়ে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয়রা জানান, আসিফের বোন শারমিন হানি ট্র্যাপ শারমিন নামেই পরিচিত। অনেকে অবশ্য শারমিনকে এমপি ইলিয়াস মোল্লার রক্ষিতা হিসেবেও জানে। শারমিনের দেহব্যবসা ও টার্গেট করে ধনীর দুলালিদের ফাঁদে ফেলে টাকা, মোবাইল, স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়ার অপকৌশল ওপেন সিক্রেট। আর মিরপুর ১৬ আসনের সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা ও বড় নেতাদের মনোরঞ্জনের জন্য শারমিনের নাম সবাই জানে। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামিলীগ সরকারের পতনের পর শারমিন বড় বড় ক্লায়েন্ট ধরে বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে সার্ভিস দিচ্ছে।

আর আসিফের মামা বিহারি নেতা সাব্বির মিরপুরের চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ইয়াবা সাব্বির সাদা পাঞ্জাবি গায়ে ভদ্রলোকের বেশে ঘুরে বেড়ালেও তার মূল কাজ ইয়াবা ব্যবসা করা। এমপি ইলিয়াস মোল্লার সাথে সাব্বিরের ছিলো দহরম মহরম সম্পর্ক। ইয়াবা ব্যাবসায়ী, পুলিশের সোর্স সাব্বির, ফিরোজ, আশফাক, বুদ্দু, জুম্মন, তান্নু, ছটু ভায়েরা এখন সে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিএনপির নেতাদের ভাও করার জন্য কৌশলে কাজ করছেন।

অন্যদিকে আসিফের দুলাভাই রনি ও রনির ভাই সোহেল ওরফে চাপ্তানি সোহেল বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। এমনকি সোহেল পল্লবী থানা ছাত্রদলের সভাপতি হতে বিএনপি নেতা আমিনুল হকের কাছে নিয়মিত ধর্না দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল নিজেও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। সোহেল তার ভাই রনি, রনির স্ত্রী শারমিন, তার মামা সাব্বির, অন্যান্য মামা পুলিশের সোর্স, শ্যালক আসিফ মিলেই চালায় ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। এমনকি সোহেল, রনি বাসার গেটে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়, আর রনির স্ত্রী শারমিন পল্লবী থানার পুলিশকে রুমে অনৈতিক সার্ভিস দেয় বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ঠিক এভাবেই সন্ত্রাসী আসিফ, তার কয়েকটা পুলিশের সোর্স মামা ও পরিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের সাথে মিলে চালিয়ে আসছে অপরাধের স্বর্গরাজ্য।

নাম:”সন্ত্রাসী জুম্মন শেখ”
পিতা- মৃত কুরবান শেখ
মাতা- জরিনা বেগম

স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- শেখপাড়া, পোস্ট অফিস- বানরগাতী, থানা- সোনাডাঙ্গা জেলা-খুলনা। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- সেনপাড়া পর্বত, বাসা নম্বর- ৫৮৪/২ ইসলামী ব্যাংক গলি, এক নম্বর বিল্ডিং, থানা- কাফরুল, জেলা- ঢাকা।

সন্ত্রাসী জুম্মন শেখের সন্ত্রাসের ধরণ:
সন্ত্রাসী জুম্মন শেখ ও তার মা জরিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে কাজ করছে। টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কোপানো, জিম্মি, অপহরণ, মাদক চোরাচালান, নারী কেলেংকারী সহ নানা অপকর্মে জড়িত জুম্ম শেখ। আর এসব অপকর্মে সহায়তা করে তার মা জরিনা বেগম। ছোট্ট একটা দোকানের আড়ালে মাদকের ব্যবসা এবং টার্গেট ব্যক্তিদের তথ্য দিয়ে ছেলে জুম্মন শেখকে সহায়তা করেন জরিনা বেগম।

নাম:”সন্ত্রাসী মুরাদ হোসেন”
বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি । বর্তমানে মিরপুর ১৩ ও ১৪ এলাকায় ভাড়া থাকেন। প্রায়শই মুরাদ গ্যারেজে কাজ করে, তবে আড়ালে চলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

সন্ত্রাসী মুরাদ হোসেনের
সন্ত্রাসের ধরণ: দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে কাজ করছে। টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কোপানো, জিম্মি, অপহরণ, মাদক চোরাচালান, নারী কেলেংকারী সহ নানা অপকর্মে জড়িত মুরাদ হোসেন। জানা যায় সন্ত্রাসী শাহীন শিকদার বড় বড় অপারেশন করায় মুরাদকে দিয়ে। এমনকি মুরাদ সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়ে শাহীনের কাজ করে দেয়।

“ট্যাবলেট হেলেনা ওরফে ক্যাশিয়ার হেলেনা”

নাম:হেলেনা, স্বামী- বাচ্চু
বর্তমান ঠিকানা- মিরপুর ১৪, কচুক্ষেত। পেশা- ইয়াবা ও মাদক চোরাচালান, দেহব্যবসায়ী ও অনৈতিক কাজে মেয়ে সাপ্লাই।

হেলেনার সন্ত্রাসের ধরণ:
শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের সকল অপকর্মের অন্যতম সহযোগী হেলেনা। এমনকি হেলেনা শাহীন শিকদারের ব্যক্তিগত ক্যাশিয়ার বলেও পরিচিত। হেলেনার স্বামী বাচ্চু মিরপুর ১৩,১৪ তথা কামরুলের চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক কারবারি। পুরাতন কচুক্ষেতে তাদের বাসা।

হেলেনা আগে গার্মন্টেসে টিফিন দিতো। পরে বিভিন্ন নেতার বিছানায় শুয়ে ফায়দা লুটে ঝুট ব্যবসা শুরু করে। সেই সাথে হোটেল সহ বিভিন্ন টার্গেট ব্যক্তিদের বাসায় মেয়ে সাপ্লাই দেয়া শুরু করে। এমনকি হেলেনা নিজেও একজন দেহব্যবসায়ী।

শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের গ্যাংদের সহযোগী অনেকেই রয়েছে। উপরোক্ত নামগুলোর বাইরেও শাহীনের বিরাট এক চক্র। যাদের মাধ্যমে শাহীন তার অপকর্মগুলো দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, মিরপুর তথা রাজধানীর আতঙ্ক সন্ত্রাসী চক্রটি দেশের বাইরে থেকেও নিউজ প্রকাশের দিন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অতি শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের চলমান আইন শৃঙ্খলা অবনতি হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্ৰহণের দাবি সাধারণ জনগণের। হয়তো তখনই কিছুটা স্বস্তি পাবে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ভারতসহ সব দেশ সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শুধু আলোচনার জন্যই বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ইরানের নেতাদের: ট্রাম্প

পরিচ্ছন্ন কালীগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে এক নতুন পথচলা

নাসিরনগর চাতলপাড়ে কেরি ট্যাবলেট খেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ জামায়াতের ইফতার মাহফিল ও ঐক্যের ডাক

ক্ষুদে ফুটবলারদের দাপট, ডিমলায় গোল্ডকাপের ফাইনাল সম্পন্ন

রাজনীতি শিখুন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে লাভ নেই: বিরোধী দলকে সেতুমন্ত্রী

দুর্দান্ত খেলে ২-০ তে ৮৬ মিনিট এগিয়ে থেকেও কান্নায় ভেসে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় সেনেগাল

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে তিন যানের সংঘর্ষে নিহত-৩, আহত-৫

শেরেবাংলা নগরে সাংবাদিকের ব্যাগ ছিনতাই, মোবাইল-ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়াছেন