রাজধানীর মুগদায় নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫)-এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
মঙ্গলবার (২ জুন)দিবাগত রাতে মুগদা এলাকার একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বন্ধু আজাদ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে জানতে পারেন, তানভীর হোসাইন শুভ গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে তার খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না। অনেকটাই চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। ডিভোর্সের পর থেকে তিনি আরও গুটিয়ে গিয়েছিলেন। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা বলতে পারছি না।’
নিহতের ছোট ভাই শৈবাল জানান, ২০১২ সালে তানভীর বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের তিন মাসের মাথায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। মুগদার বাসায় একাই থাকতেন এবং ঈদেও সাধারণত বাড়িতে যেতেন না।
তিনি আরো জানান, ঈদের আগের দিন আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই খোঁজ- খবর নিয়েছিলেন। তখন মনে হয়নি তিনি কোনো ধরনের মানসিক চাপে ছিলেন। কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা আমাদের জানা নেই।
নিহতের বাবা তবারক হোসেন জালান,, ‘ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিনও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছি না।’
পুলিশ জানায়, বাড়ির মালিক সর্বশেষ ঈদের দিন তানভীর হোসাইন শুভকে দেখেছিলেন। এরপর কয়েকদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তার কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে বাসার লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানায়, বাড়ির মালিক সর্বশেষ ঈদের দিন তানভীর হোসাইন শুভকে দেখেছিলেন। এরপর কয়েকদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তার কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে বাসার লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জাহিদ হাসান বলেন, প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি কক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসাইন শুভর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মরদেহে পচন ধরেছিল এবং ঘটনাটি কয়েকদিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কেন এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আমাদের ধারণা, মানসিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা



















