উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরো ৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে ।
মঙ্গলবার ভোরে দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। নতুন করে নিহত চার শিক্ষার্থী হলেন—এরিকসন (১৩), আরিয়ান (১৩), নাজিয়া (১৩) ও সায়ান ইউসুফ (১৪)।
তাদের প্রত্যেকের শরীর ৮৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল। ডা. শাওন জানান, এরিকসনের শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সায়ানের ৯৫ শতাংশ, নাজিয়ার ৯০ শতাংশ এবং আরিয়ানের ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা চারজনই মারা গেছে। এর আগে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানভীর আহমেদ, সপ্তম শ্রেণির আফনান ফাইয়াজ, মাইলস্টোন স্কুলের প্রাইমারি সেকশনের হেড কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চৌধুরী ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ সামিনের।
একইসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মারা যায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ।”এ দুর্ঘটনায় বর্তমানে ৪৪ জন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অনেকের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। তখন স্কুল চলছিল এবং অনেক শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের পর চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।



















