রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল এলাকার নির্মানাধীন ভবন মালিকদের মধ্য অনেকের সময় কাটছে নানা শংকায়। ম্যাজিষ্ট্রেট কখন এসে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দেবেন- এমন আতংককে পুজি করে ভবন মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ইমারত পরিদর্শক অমিত হাসানের চলছে ধান্ধাবাজি। স্থানীয় ভবন মালিকরা অমিতের এসব ‘অত্যাচার’ নীরবে সহ্য করলেও যে কোন সময় ওই এলকায় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাতুয়াইল এলাকাটি এক সময় ধানক্ষেত ছিলো। বেশীরভাগই পানিতে তলিয়ে থাকতো। সময়ের ব্যবধান আর আর্শিবাদ হিসাবে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার (সাবেক হানিফ ফ্লাইওভার) চালুর পর কাজলা, শনির আঁকড়া, রায়েরবাগ, মেডিকেলসহ পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে যেতে শুরু করে। এসব এলাকায় এখন গড়ে উঠেছে হাজার হাজার হাইরাইজড ভবন।
তবে রাজউক থেকে ভবন মালিকদের ভবন নির্মানে যেভাবে ছাড়পত্র এবং প্ল্যান পাশের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে সেইসব ভবনগুলোর শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগই গড়ে উঠেছে রাজউকের নিয়ম বহির্ভূতভাবে। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। এই সুযোগকে পুজি করে মাতুয়াইল এলাকার (জোন-৬/২) ভবন মালিকদের কাছ থেকে কখনো অভিযান চালানোর ভয় দেখিয়ে, কখনো ভবনের একাংশ ভেংগে ফেলে আবার কখনো নির্মান কাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বানিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে রাজউক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামে।
স্থানীয় এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগী মালিকরা বলছেন, অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল মাওয়ার টীমের সদস্য ইমারত ইন্সপেক্টর অমিত হাসান ভবন মালিকদের কাছ থেকে নগদ টাকা কালেকশন করছেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে টেলিফোন করে অমিত হাসান নির্মানাধীন ভবন মালিকদের প্রথমে ফাপর দেন। এরপরও চাহিদা মতো টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরবর্তীতে ওই ভবনের নির্মান কাজ অবৈধভাবে করা হয়েছে বলে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এক পর্যায়ে দিশেহারা মালিকদের ভবন ভাংগার চিঠি ইস্যু করা হয়। এভাবে আতংক ছড়িয়ে এবং ঘুষের রেট বাড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেন। অবৈধ অংশ ভেংগে দেয়ার পর অমিত হাসান ওই সব ভবন মালিকদের রাজউক ভবনে এসে স্যারদের সাথে দেখা করতে বলেন। এভাবেই পুরো মাতুয়াইল এলাকা জুড়ে চলছে অমিত হাসানের বেপোরোয়া চাদাবাজি।
আজ সোমবার বিকেলে ইমারত ইন্সপেক্টর অমিত হাসান এর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা জানতে তার মোবাইলে বার বার কল দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আজ (২২ জুন) সকালে মাতুয়াইল ভুট্টো চত্বর একালার একাধিক ভবন মালিক অমিতের অভিনব স্টাইলে চাদাবাজির বিষয়ে শুধু বলেন, ‘যদি আমরা এখন অমিতের নাম এবং ভবন মালিকদের পরিচয় দিয়ে কথা বলি তাহলে কালই এসে আরেকটা অজুহাত দেখিয়ে আবার ভবন ভেঙে দেবে। তখন আমাদের পথে বসতে হবে। তাই আমরা চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সাংবাদিক এবং গোয়েন্দারা তার ব্যাপারে সরেজমিন খোজ নিলে এলাকার মানুষরাই বলবে অমিতের চাদাবাজির নানা কাহিনী। সে শুধু রাজউজের এই জোনের পরিচালক, অথরাইজড অফিসারের নামই ভাংগান না। কোন কোন ক্ষেত্রে রাজউক চেয়ারম্যান স্যারের নামও ভাংগিয়ে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ না করাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















