টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Thursday , 2 July 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
July 2, 2026 7:28 pm

পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে-মেয়েরই আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণপোষণের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে।

একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণপোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।

তিনি বলেন, আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। আর ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

তিনি বলেন, এ আইন শুধু শাস্তি দেয়ার জন্য নয়, সন্তানদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

লালবাগ ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: অনুসন্ধান করায় যুগান্তরের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি!

ফিল্ম কায়দায় সিএনজি থামিয়ে যুবককে জিম্মি, হাত-পা বেঁধে ৩০ হাজার টাকা-মোবাইল লুট

বহিষ্কার নয়, আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া উচিত ছিলো: রিয়াজুল রিজু

বীরগঞ্জে মন্দিরের পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ

গ্যাস লিকেস থাকে বিস্ফোরণ জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

পরকীয়া জেলা স্বামী স্ত্রীর নিহত

রাজধানীর ইন্টারনেট ব্যবসায়ী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

কুমিল্লা নগরীর কাটাবিলে স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ধানমন্ডিতে নির্মানাধীন ভবনের বেজমেন্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক শ্রমিকের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তার বাজেট ১৫০ টাকা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ড এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের দণ্ড মওকুফ,তবে ক্ষমতার জোরে না,সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই