সিলেটে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চালু হলো ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। প্রায় আট বছর পর এ ফ্লাইট চালু হলো। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে নতুন এ যাত্রা শুরু করেছে ওমানভিত্তিক এয়ারলাইন্স ‘সালামএয়ার’।
সপ্তাহে তিন দিন এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইন্সটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রথম বিদেশি বিমান সংস্থা হিসেবে রেকর্ড গড়েছে ‘সালামএয়ার’।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজ আহমেদ।২০১৫ সালের ১ এপ্রিল দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইদুবাইয়ের মাধ্যমে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হয়। পরবর্তীতে ফ্লাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফের সিলেট থেকে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ওসমানীর কার্যক্রম থাকলেও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
ওমানভিত্তিক সালামএয়ারের সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইট চালুর মধ্যদিয়ে সেই শূন্যতা কাটল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এ রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। সরাসরি মাস্কাটের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালু হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সিলেটের বিপুল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য এ রুটটি সময় ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি
সালাম এয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে মাস্কাট থেকে সালামএয়ারের একটি উড়োজাহাজ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে নামে। ওই ফ্লাইটে ১৩৩ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’ দিয়ে স্বাগত জানায়। এর মধ্য দিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হয় বিদেশি এয়ারলাইন্স সালাম এয়ারের।
সেলিম আল রাজি আরও জানান, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পূর্ণ আসন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। ওই ফ্লাইটে ২৩৩ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু ছিলেন।
সালাম এয়ারের উদ্বোধনী ফ্লাইট উপলক্ষে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সালাম এয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এয়ারলাইন্সটির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভ অ্যালেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- ওমান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ফাতিহা আহমেদ আল বালুশি। এতে উপস্থিত ছিলেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজ আহমেদ, সালামএয়ারের এরিয়া ম্যানেজার সাজিদ খান, কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ রাজন এবং বাংলাদেশে সালাম এয়ারের পার্টনার জিএসএ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. লতিফ শাহরিয়ার জাহেদি।
সালামএয়ার সূত্রে জানাযায়,শুরুতে মাস্কাট–সিলেট রুটে সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী মাসে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের সাত দিনই এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে এয়ারলাইনটি। সালামএয়ারের পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার আরাবিয়া ও ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজ আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ফ্লাইদুবাই যেমন বাজেট এয়ারলাইন ছিল, বর্তমানে সিলেটে নতুন করে আসা সালামএয়ারও একটি বাজেট এয়ারলাইন। ফলে তুলনামূলক কম খরচে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। ২০১৮ সালে ফ্লাইদুবাই নিজেদের পরিচালনগত কারণে সিলেটের ফ্লাইট বন্ধ করেছিল। এর সঙ্গে ওসমানী বিমানবন্দরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। বর্তমানে সিলেট থেকে সরাসরি লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফ্লাইট সেফটি ও সিকিউরিটি প্রটোকলসহ সবদিক থেকেই বিমানবন্দরটি যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করছে। তবে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের পরিচালন সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন যেকোনো এয়ারলাইনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। নিয়মকানুন মেনে বিমানবন্দরের সুবিধাজনক সময়ে কোনো এয়ারলাইন তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবা দিতে চাইলে তাদের মানসম্মত সেবা দিতে কর্তৃপক্ষ শতভাগ প্রস্তুত ও সক্ষম।
সালামএয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ওমানের দ্বিতীয় ন্যাশনাল ক্যারিয়ার। ওমান এয়ারের পর দেশটির দ্বিতীয় জাতীয় এয়ারলাইন হিসেবে সালামএয়ারের মূল কেন্দ্র মাস্কাট। সিলেট-মাস্কাট রুটে চলাচলকারী এ বাজেট এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সিলেটবাসী ও প্রবাসী যাত্রীরা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
সিলেট থেকে আরও নতুন ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ যোগাযোগ ও চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো এয়ারলাইন ফ্লাইট চালুর আগে সময়, পরিচালন সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়। কারণ কোনো এয়ারলাইন হুট করে ফ্লাইট চালু করে আবার বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করে না।
তিনি আরও বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি সক্ষম। সব নিয়ম মেনে যেকোনো বিমান সংস্থা এগিয়ে এলে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা ও সেবা দিতে প্রস্তুত।


















