জান্নাত ফটোকপি অ্যান্ড কম্পিউটার: প্রতারণার আখড়া, কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন খোকন। দোকানটির আনুষ্ঠানিক মালিক হিসেবে পরিচিত তার সৎ বাবা মোজাম্মেল হক বাবুর নাম ব্যবহার হলেও, পুরো নিয়ন্ত্রণ খোকনের হাতেই।
মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার আমতলা বাজার সংলগ্ন, বাড়ি নং–০৩, রোড নং–০৮, বায়তুল কারার জামে মসজিদের পাশেই অবস্থিত “জান্নাত ফটোকপি অ্যান্ড কম্পিউটার” দোকানটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল প্রতারণার নেটওয়ার্ক।
এই দোকানের পরিচালক খোকন, যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে নিয়ে বসে আছে, টাকা দিলেই সমাধান মিলছে যেকোনো সমস্যা। আর এই প্রতারণা ও অবৈধ আয়ের পথেই তিনি আজ বিপুল সম্পদের মালিক।
খোকন ২০১৫ সালে আইডিএস গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। দারিদ্র্য তাকে আটকে রাখতে পারেনি,বরং নানা অবৈধ সুযোগের অপব্যবহার করে আজ তিনি কোটি টাকার মালিক। আর অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে প্রতারণার সাম্রাজ্য
জানা গেছে,
তার নামে ব্যাংকে ৩ কোটি টাকারও বেশি ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে এবং নিজ জেলা গোপালগঞ্জে তিনি বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন।
খোকনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল–১-এর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তার দুই প্রধান সহযোগী, সিএনএস কম্পিউটার অপারেটর মহসিন (রুম ১০৭)ও সাবেক আনসার সদস্য জিয়া (রুম ১১৩)।তারা দুজনে নিয়মিত-ভাবে খোকনকে সহায়তা করেন এবং প্রতিদিনই নানা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তিনি যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে সেগুলো হল,
.ডোপ টেস্ট জালিয়াতি: সড়কে বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি
.প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। কিন্তু খোকন ও তার সহযোগীরা ৩,০০০–৪,০০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডোপ টেস্ট রিপোর্ট তৈরি করে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে সাবমিট করছে। ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও অযোগ্য ব্যক্তিরা সহজেই লাইসেন্স পাচ্ছেন।
এছাড়া আরো রয়েছে
ভুয়া সনদ এবং বিভিন্ন প্রতারণা, জান্নাত ফটোকপি অ্যান্ড কম্পিউটার দোকানে
• ১,০০০ টাকায় ভুয়া টিআইএন সার্টিফিকেট,
• ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স,
• ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট
সহ নানান ধরনের জালিয়াতি করা হয়।
.যেকোনো সরকারি ডকুমেন্ট হারালে থানায় জিডি এবং ট্রাফিক অফিস থেকে ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু খোকন ৫০০ টাকার বিনিময়ে এগুলোও করে দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
.একই ব্যক্তির নামে একাধিক গাড়ি থাকলে পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ আরোপ করা হয়। খোকন এখানেও ২০,০০০–৩০,০০০ টাকার বিনিময়ে এই চার্জ কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ
প্রতিদিন শত শত মানুষ জান্নাত ফটোকপি অ্যান্ড কম্পিউটার দোকানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। অপরদিকে খোকন ও তার সহযোগীরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবেই তিনি ইতোমধ্যে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে খোকনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে,
তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে, বলেন তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি এ সকল বিষয়ে কোন কিছুই জানে না।এবং কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে বাজে ব্যবহার শুরু করে ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।



















