টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Monday , 16 February 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামগঞ্জ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে রক্তলাল শিমুল ফুলের গাছ

প্রতিবেদক
মোঃ মশিয়ার রহমান
February 16, 2026 1:02 pm

একসময় রক্তলাল শিমুল ফুলের ছড়াছড়ি ছিলো জলঢাকা উপজেলা তথা পুরো বাংলাদেশেই। শীতের বিদায় লগ্নে শিমুল ফুলের পাঁপড়িতে রঙিন হয়ে উঠতো প্রকৃতি। জানান দিতো ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের কথা।

গ্রাম বাংলার সে রূপটি যেনো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে। এখন দেশে অনেক ফুলের দেখা মিললেও চোখে পড়েনা সেই চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের শিমুল ফুল। বছর দশেক আগেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে বা রাস্তার পাশে শিমুল গাছ দেখা যেতো। কিন্তু এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। কেটে ফেলা আর বীজ বপন না করায় শিমুল গাছের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে। ব্যাপক হারে কমে গেছে এ গাছটি। বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে। হয়তো বা আগামি ১০ বছরে নতুন প্রজন্ম গাছটিকে বাস্তবে একেবারেই হারাবে।
শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের উপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করতো। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে।

শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে।

বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৬০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয়। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ একশত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এবং বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় এ উপজেলায় ব্যাপক হারে শিমুলগাছ দেখা যেতো। কিন্তু এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। অপরিকল্পিত ভাবে কেটে ফেলার কারণে শিমুল গাছের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। বসন্তের আগমনকে মনে করিয়ে দিত শিমুল গাছ। শিমুল গাছের ডালে ডালে লাল ফুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলতো। কিন্তু শিমুল গাছ কেটে ফেলার কারণে প্রকৃতি যেনো তার রূপ হারিয়ে ফেলছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে যেন ভাটা পড়ছে। প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুললে ব্যাপকভাবে আমাদের শিমুল গাছের চারা রোপণ করা উচিত।

বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম বলেন, শিমুলের গাছ আপনা আপনি জন্ম নেয়। কিন্তু জায়গার প্রয়োজনে শিমুল গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। শিমুল গাছ না রোপণের ফলে আমরা বসন্তের সুষমা হারাচ্ছি। শিমুল গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশ বিশুদ্ধ হবে।

প্রাকৃতিকভাবে আমরা শিমুল গাছ থেকে তুলা পেয়ে থাকি। কিন্তু গাছ না থাকার কারণে আমরা কৃত্রিম তুলা ব্যবহার করে থাকি। প্রকৃতিকে বাঁচাতে সকলের শিমুল গাছ রোপণ করা উচিত। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বাঁচবে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কুমিল্লায় ৯২ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রিপিস উদ্ধার

সাভারে দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ

জুলাই না থাকলে যমুনা, নির্বাচন ও সরকার-কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত আমির

কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের রত্নগর্ভা মা সম্মাননায়: সুশিক্ষিত জাতি গঠনের পেছনে সুশিক্ষিত মায়ের বিকল্প নেই -প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া

এবার রাজধানীতে বসবে ২৬টি কোরবানির পশুর হাট

সাংবাদিককে হেনস্থা প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব সহ গ্রেফতার ৩ জন

জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু ও ঢাকা মেডিকেলে এক এই নিয়ে ১৫জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবককে হত্যা

ছিনতাইকারীর ব্যাগ ধরে টান দেওয়াই চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু