টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Monday , 2 June 2025 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএতে দালাল মোহাম্মদ রতন ও রুবেলের দাপট ! তারা দেড়যুগ ধরে দালালি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেছে 

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
June 2, 2025 12:36 am

মিরপুর মেট্রো -১ সার্কেলে বিআরটিএ’র অফিসে বছর পর বছর ধরে সক্রিয় দালাল চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বহুল আলোচিত ব্যক্তি –মোহাম্মদ রতন ও মোহাম্মদ রুবেল । বিআরটিএতে তাদের ভাব দেখে আগত গ্রাহকরা মনে করেন তারা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা হবেন । অর্থের বিনিময়ে কাজ করার সময় গ্রাহকরা বুঝতে পারেন তারা কোনো কর্মকর্তা না । রতন ও রুবেল দালাল হিসেবে পরিচিত। তারা ও কৌশলে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে গ্রাহকদের তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ সিফাতের কাছে গাড়ির কাগজপত্র জমা দেয়। দালাল রতন ও রুবেল দুইজনে গ্রাহকদেরকে বিভিন্নভাবে কথাবার্তা বলে সুকৌশলে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা তাদের কথাবার্তা শুনে অর্থ দিতে বাধ্য হয়। দালালরা তাদের দাবিকৃত পরিমাণে অর্থ পেয়ে গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করতে চলে যান ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাতের কাছে। তাদের মধ্যে লেনদেন ওকে হলে তখন সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত মাধ্যমে গাড়ির কাগজপত্র সম্পূর্ণ করা হয়। এ ভাবেই দুই দালাল বছরে পর বছর বিআরটিএতে ফিটনেস শাখাসহ বিভিন্ন শাখা গুলোতে রতন ও রুবেল নামের দুই দালাল কাজ করছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দালাল রতন বিআরটিএতে দেড়যুগ ধরে দালালি কাজ করে মিরপুর এভিনিউ ফাইভ এলাকার একটি জামে মসজিদের পাশে তিন তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । দালাল রুবেলও মিরপুর বিআরটিএতে দালালি কাজ করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে । এই দুই দালাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালি কাজ করতে থাকে। মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত ও সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাত এই কর্মকর্তারা ওই দালালদের মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে ঠকিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দালালদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিআরটিএতে দেখার কেউ নেই ! তারা কাউকে পরওয়ার করে না । দালাল দুইজন সার্বক্ষণিক গ্রাহকদের গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। দালালরা সার্বক্ষণিক উৎপাতে থাকে কখন গ্রাহক আসবে এবং তাদের মাধ্যমে কাজ করাবে। আগের থেকে দালালরা অফিসারকে ম্যানেজ করে রেখে দেন। গাড়ির কাগজপত্র দালাল রতন ও রুবেল হাতে নিয়ে ওলট-পালট করে দেখে গ্রাহকদেরকে বলেন আপনারা একটু অপেক্ষা করুন আমি স্যারকে দেখাচ্ছি কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা কিছুক্ষণ পরে এসে দালালরা গ্রাহকদেরকে বুঝান আপনার কাগজপত্র বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। তবে মোটা অংকের অর্থ দিলে কাগজপত্র ঠিক করে দিব। এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ নামের একজন গ্রাহক গাড়ির ফিটনেসসহ বিভিন্ন শাখায় কাগজপত্র ঠিক করতে এসে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হইতে হয়। অনেকদিন ঘোরাঘুরি করে কাজের কোন সমাধান না করতে পেরে এক পর্যায়ে দালালদের ধর্না ধরতে হয়। সেই কাজ অর্থের বিনিময়ে একদিন হয়ে যায় । এরকম হাজারো গ্রাহক প্রতিনিয়তই হয়রানি শিকার হচ্ছেন । এই সুযোগটাই দালালরা কাজে লাগাচ্ছেন। বিআরটিএ’র আশপাশের বিভিন্ন ধরনের দোকানে দালালদের আড্ডাখানা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আরো জানা গেছে, দালাল রতন ও রুবেল বিভিন্ন দলের নেতাদের পরিচয় দিয়ে বিআরটিএতে দালালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দালাল রতন ও রুবেল দাপটের সঙ্গে সরকারি অফিসে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএ’র আধিপত্য নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তারা নিজেরাই দালালদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং দালালদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে । ফিটনেস শাখাসহ বিআরটিএ’র এমন কোন বিভাগ নেই যে তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সিএনজি অটো রিক্সা সহ সব ধরনের যানবাহনের কাজ করে থাকে।বিশেষ করে ফিটনেস শাখার ১২৭ নম্বর কক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালদের আনাগোনা থাকে । সরকারি সময়ের বাইরেও সিল মারার কাজ করে চলছে দালাল রতন ও রুবেল। সহকারী মোটরযান পরিদর্শক সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রনজিতের ছত্রছায়ায় চলছে এ অপকর্ম।

বিআরটিএ’র সূত্রে জানা গেছে, দালাল রতন ও রুবেল প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ফিটনেস সেবা সংক্রান্ত দালালি মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরাসরি অফিস রুমে প্রবেশ করে ফাইল আদান-প্রদান এবং সিল সংগ্রহ করলেও কোনো কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। বরং কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাদের অপকর্মের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। তারা ভয়ভীতি ও পরবর্তীতে ক্ষতির হুমকি দিচ্ছি একের পর এক । অথচ তারা দালালি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন। বিআরটিএ এলাকায় প্রশাসনের ডিউটি থাকার কালেও দালালরা একের পর এক অপকর্মের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে । তারা দেড়যুগ ধরে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে বেআইনি ভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, বিআরটিএ’র দালাল রতন ও রুবেল কোন দলের সাথে জড়িত নয়। তারা যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করতে যায় তাহালে তাকে প্রশাসনিক লোকজনের কাছে সোপর্দ করার জন্য বলেছেন।এখন প্রশ্ন হলো দালাল রতন ও রুবেল কিভাবে বছরের পর বছর কিভাবে দাপটে সাথে কাজ করে যেতে পারে? তাদের পেছনে কারা ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন? বিআরটিএ কর্মকর্তারা কেন মুখ বন্ধ করে আছেন?

নাম প্রকাশের অনিচ্ছু বিআরটিএ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, দালাল রতন ও রুবেলকে নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কিত আছি। তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।এই চক্রের মূল হোতা বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিভিন্ন দলের নাম পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সেবার নামে চাঁদাবাজির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ জরুরী।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ভূমিকম্পে দ্রুত উদ্ধার-সহায়তায় স্পেশাল ফোর্স গড়েছে ফায়ার সার্ভিস:ডিজি

কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তায় নিন্ম মানেরনির্মান সামগ্রী

রাজবাড়ীতে বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

বীরগঞ্জে চিকিৎসার আশায় রোমেনা, অর্থাভাবে ছেলের পড়াশোনাও অনিশ্চিত

ডিমলায় ঠিকাদার সমিতির নতুন কমিটি, সভাপতি লিটন সম্পাদক রব্বানী প্রধান

বিমান দুর্ঘটনা

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে দগ্ধ জাতীয় বার্নে ই ভর্তি ৪৪ও (আইসিইউ) তে ১২জন

কেরানীগঞ্জে জগ্ননাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা আপন ফুফুদের বাদ দিয়ে তুলে নিয়েছে দুই প্রতারক

আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৮ জন নিহত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ এটিএম বুথ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা: ঈদের আগ থেকেই শুরু সংকট

ইরান সীমান্তে মার্কিন রণসজ্জা‘প্রকৃত চুক্তি’ নিয়ে ট্রাম্পের রণহুঙ্কার