রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান VOIP সরঞ্জামাদিসহ ৩৯৬ টি বিভিন্ন কোম্পানীর সিম উদ্ধারসহ ০২ জন আসামী মোঃ মজিবুল হক রুবেল (২৭) ও মোঃ আরাফাত শেখ (২৭) দ্বয়’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২ ও বিটিআরসি।
বাংলাদেশ র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোরাল ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন চানমিয়া হাউজিং এলাকা হতে বিপুল পরিমান ভিওআইপি সরঞ্জামাদিসহ ৩৯৬ টি বিভিন্ন কোম্পানীর সিম উদ্ধারসহ ০২ জন আসামী ১) মোঃ মজিবুল হক রুবেল (২৭) ও ২) মোঃ আরাফাত শেখ (২৭) দ্বয়’কে অদ্য ১৭/০৬/২০২৫ইং তারিখ রাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২ ও বিটিআরসি।
অদ্য ১৭ জুন ২০২৫ ইং তারিখ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ ও বিটিআরসি জানতে পারে যে, বিটিআরসি’র অনুমোদন ব্যতিত ফ্রিকোয়েন্সি ও অনুমোদন বিহীন বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ যন্ত্র সামগ্রী (সীম বক্স, রাউটার, অনু, ল্যাপটপ, সীমকার্ড) ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি সহ কতিপয় ব্যক্তি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা করছে। চক্রটি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। বর্ণিত চক্রটিকে গ্রেপ্তারের লক্ষে র্যাব-২ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১৭/০৬/২০২৫ইং রাতে ডিএমপি ঢাকা, মোহাম্মদপুর থানাধীন চানমিয়া হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসকারী ভাড়াটিয়া ১) মোঃ মজিবুল হক রুবেল (২৭) থানা-মোহাম্মদপুর ডিএমপি,ঢাকা এর ভাড়া বাসায় উপস্থিত হলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে ও তার সহযোগী মোঃ আরাফাত শেখ (২৭) থানা-গোপালগঞ্জ সদর জেলা- গোপালগঞ্জ কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মোঃ মজিবুল হক রুবেলের কাছে অবৈধ VOIP (Voice Over Internet Protocol) যন্ত্রপাতির সর্ম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যে, উক্ত অবৈধ VOIP যন্ত্রপাতি তার বসতঘরে আছে। উল্লেখিত ঘটনাস্থলে তল্লাশীকালে ক) বায়োমেট্টিক ফিঙ্গার প্রিন্ট ডিভাইস-০৫টি, খ) ০১টি HP Laptop, গ) ০১টি Dell Laptop , ঘ) সর্বমোট সীমকার্ড-৩৯৬ টি (জিপি-৩৮ টি, রবি-১৬৮ টি, এয়াটেল-১১৩ টি, টেলিটক-১২ ও বাংলালিংক-৬৫ টি), ঙ) নগদ ৭১,১৭০/-টাকা ও চ) মোবাইল ফোন ১০ টি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উল্লেখিত আসামিদ্বয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের মূলহোতা। চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) হতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত অবৈধ ভিওআইপি যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা তৈরী করে অবৈধভাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবসা পরিচালনা করার কারণে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হতে বঞ্চিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে ভবিষ্যতে র্যাব-২ এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



















