সরকারি নথিতে তিনি মৃত। তাই নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দফতরে দফতরে ঘুরছেন এক রিকশাচালক। বাস্তবে তিনি বেঁচে থাকলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে মৃত দেখানো হওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক হয়ে যাওয়ায় নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী বাদশা শেখ ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাদীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গেন্দু শেখের ছেলে। পেশায় রিকশাচালক।বাদশা শেখ জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। এরপর থেকে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাদশা শেখ বলেন, ‘আমি জীবিত, কিন্তু কাগজে-কলমে আমাকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমার এনআইডিও ব্লক করে রাখা হয়েছে।’
সমস্যার সমাধানের আশায় সম্প্রতি তিনি ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসে যান। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে তাঁর অভিযোগ।
বাদশা শেখ বলেন, ‘নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, আমি জীবিত—এ মর্মে পৌরসভা থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে হবে। এরপর বিষয়টি দেখা হবে।’একজন জীবিত মানুষকে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ছবিসংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরও কেন একজন নাগরিককে জীবিত থাকার জন্য আলাদা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে?
বাদশা শেখ বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। প্রতিদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। তারপরও নিজের পরিচয় ফিরে পেতে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। আজ (৩ জুলাই) পর্যন্ত আমার এনআইডির সমস্যার সমাধান হয়নি।’
২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন তনু বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদশা শেখের সঙ্গে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুলবশত বা যে কারণেই হোক, বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করে তাঁকে ভোটাধিকারসহ সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।’
তবে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ বলেন, ‘বাদশা শেখ কয়েক দিন আগে আমাদের অফিসে এসেছিলেন। তাঁর এনআইডির তথ্য সংশোধনের কাজ করা হয়েছে।’
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তথ্যগত ভুল সংশোধন, ভোটার তালিকায় বাদশা শেখের নাম পুনর্বহাল এবং তাঁর এনআইডির ব্লক প্রত্যাহার করা হোক, যাতে তিনি একজন নাগরিক হিসেবে সব সাংবিধানিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা ভোগ করতে পারেন।



















