রাজধানীর উত্তর খান এলাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মারুফা ছদ্মনামে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ৩য় দিনের মাথায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আয়শা দম্পত্তিকে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী মারুফা। এতে গৃহকর্ত্রী আয়েশা মারা যায় এবং গৃহকর্তা স্বামী আনোয়ার হোসেনকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গৃহকর্মী মারুফার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নং-২৭, তারিখ ১৯/০২/২০২৬ ইং, ধারা- ৩৮১/৩২৮/৩০২ পেনাল কোড দায়ের করেন। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)/মে জাব্বারুল ইসলাম তদন্ত করছেন।
পিবিআই শুরু থেকেই ঘটনার বিষয়ে ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। কিন্তু আসামী ছদ্মনাম ব্যবহার করায়, তার ছবি না থাকায় এবং কোনো রেফারেন্স ছাড়া কাজ নেওয়ায় তাকে সনাক্ত করা সহজ ছিল না। পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা ছায়া তদন্তকালে ঘটনার অবস্থা পর্যালোচনায় করে পিবিআই কর্তৃক পূর্বে তদন্তকৃত অনুরূপ মামলার আসামী/গৃহকর্মীর তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে ভিকটিম আয়েশার পরিবারকে দেখালে তারা গৃহকর্মী মারুফাকে চিহ্নিত করে। তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় জানা যায়, অভিযুক্ত গৃহকর্মীর প্রকৃত নাম বিলকিছ বেগম।
মামলা হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পিবিআই গত ১৯/০২/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত ২০.১৫ ঘটিকায় গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন বঙ্গগলি, আউটপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত হতে ১। নগদ ৬৩০০ (ছয় হাজার তিনশত) টাকা, ২। একটি ঔষধের খালি পাতা, ৩। একটি ছোট হাত ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে একই তারিখ রাত্রি ২১.৩৫ ঘটিকায় গাজীপুরের বাসন থানার বৌ-বাজার এলাকা থেকে আসামী রবিউর আউয়ালকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামিদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী বিলকিছ বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। প্রাথমিক তদন্তে আসামী বিলকিস বেগম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের তদন্তকারী ওই কর্মকর্তা।



















