টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Wednesday , 15 July 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএমইটি’র পরিচালক তাজিমের ‘ঘুষ বানিজ্য’ ওপেন সিক্রেট, ১৬ জুলাই তাকে ট্রেনিংয়ে পাঠানো হচ্ছে

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
July 15, 2026 12:39 am

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বর্হিগমন) মো: তাজিম উর রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশগামী যাত্রী, রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিক এবং তাদের নিয়োগকারী প্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশকিছু ধরে তার এই ধরনের কর্মকান্ডে শুধু যাত্রী অথবা এজেন্সীর মালিকরাই নন, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটির কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ, বিরক্ত ।

সুত্র জানিয়েছে, তার কাছে বিদেশগামী যাত্রীদের কোন ফাইল গেলে অহেতুক তিনি সেই ফাইল ছাড় না করে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এটা লাগবে, সেটা লাগবে বলে ঘুরাতে থাকেন। এভাবে কোন কোন যাত্রীর ফাইল ৯ দিন পর্যন্ত তিনি আটকে রাখেন বলে ভু্ক্তভোগী যাত্রী ও এজেন্সী মালিকদের নিত্যদিনের অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ রোমানিয়াগামী এক যাত্রীর ফাইল তিনি নানা জটিলতা দেখিয়ে আটকে রাখেন। পরে ওই যাত্রী বিষয়টি সরকারের উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে অবহিত করলে পরিচালক বহির্গমন তাজিম উর রহমান অবশেষে সেই ফাইলটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। শুধু একজন যাত্রী নন বেশীরভাগ ফাইল তার টেবিলে গেলে তিনি নানা কৌশলে দিনের পর দিন আটকে রাখার চেষ্টা করেন।

রোমানিয়াগামী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই সিংগাপুর ছিলাম। সেখান থেকে ফিলিপাইনে যাই। এ্যাম্বাসী ফেস করে রোমানিয়ার ভিসা নিয়ে আসি। ঢাকায় এসে বিএমইটির ছাড়পত্র নিতে একটি এজেন্সির মাধ্যমে ফাইল জমা দেই। এরপর থেকে পরিচালকের দফতরসহ নানা টেবিলে ধর্না দিচ্ছি। কিন্তু ফাইল আর পরিচালকের টেবিল থেকে নড়ে না। তিনি বলেন, আমি কিন্তু ফিলিপাইন থেকে রোমানিয়াতে চলে যেতে পারতাম। তখন আর ক্লিয়ারেন্স নিতে হতো না। মনে করলাম কয়েক বছরের জন্য চলে যাবো, দেশে মা বাবার সাথে দেখা করে তারপর যাই। এখন দেখি এখানে এসে আরো বিপদে পড়লাম। আমার কাগজপত্র সব ওকে। তারপরও তিনি ঘুরাচ্ছেন। তিনি ভিসা চেক করে আমাকে বলে দিক, পারমিশন দেবেন কি দেবেন না। সেটিও তিনি বলছেন না।

শুধু একজন যাত্রী নয় প্রতিনিয়ত তিনি বিদেশগামীদের সাথে হয়রানীমূলক আচরন করছেন বলে বিএমইটিতে আসা অনেকের অভিযোগ। সর্বশেষ ওই যাত্রীর ফাইল উপরের চাপে মহাপরিচালকের দফতরে গিয়েছে বলে জানান যাত্রীর পাসপোর্ট জমা নেয়া প্রতিষ্টানের মালিক। তিনি বলেন, ডিজি স্যারের কাছে ফাইল গেলে সাথে সাথে ছেড়ে দেন। রোমানিয়ার ফাইলটিও ডিজি স্যার ছেড়ে দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল মংগলবার বিএমইটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগকারীদের দেয়া তথ্য মোতাবেক পরিচালকের দফতরে গিয়ে যেসব যাত্রী হয়রানীর হচ্ছেন বা হয়েছেন,এমন অভিযোগগুলো প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় গোপনে অনুসন্ধান করে ফাইল আটকিয়ে ঘুষ বানিজ্যর বেশ কয়েকটি ঘটনার সত্যতাও পান। তারই প্রক্ষিতে তাকে পরিচালক বহির্গমন এর পদ থেকে আপাতত ২ মাসের ট্রেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল কাকরাইল এলাকার একজন রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিক পরিচালক তাজিম উর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এই চেয়ারে বসার পর আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছি না। ভিসা ঠিক থাকলে পারমিশন দিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি ফাইল আটকিয়ে নানা কোয়ারি দেন। সবকিছু দেয়ার পরও তিনি ফাইল ছাড়েন না। শুনছি তার কাছে ফাইল গেলে তারজন্য টাকা দাবী করেন। আমরা যাত্রীর একটা পাসপোর্ট প্রসেসিং করলে ২০০/৩০০ টাকা পাই। এখান থেকে তাকে আবার কি দেবো? বিশেষ করে ইউরোপের ফাইলে তিনি বেশী ঝামেলা করেন। আবার শুনি অনেকের ফাইল তিনি নাকি টেলিফোনেই ছেড়ে দেন। তাহলে স্যার বলুক আমরা লাইসেন্স সেরেন্ডার করে বাড়িতে চলে যাই। নতুবা আমাদের কেনো তিনি হয়রানী করছেন এর একটা সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। আমরা এমনই আশা করছি।

গতকাল (১৪ জুলাই) বিকেলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) তাজিম উর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন রিসিভ করেননি। যার কারনে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে আগামী ১৬ জুলাই বৃহ্সপতিবার অফিস শেষে তাজিম উর রহমান ২ মাসের ট্রেনিং কোর্সে যাচ্ছেন। তার পদে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের একজন উপ সচিবকে বাছাই করা হয়েছে।
তাজিম উর রহমান ট্রেনিংয়ে যাওয়ার পর ওই কর্মকর্তা বর্হিগমনের পরিচালক পদ সামলাবেন।
মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন তাজিম উর রহমানের কারনে বিএমইটির ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে অনেক। তার অনিয়ম ঘুষ বানিজ্যর নানা তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছিলো।

২৩ বছর ধরে বর্হিগমন শাখায় একটি এজেন্সীর প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছেন জসিম নামের এক ব্যক্তি (ছদ্ননাম)। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই সময়ের মধ্য অনেক পরিচালক দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কিন্তু তাজিম স্যার একদম ব্যতিক্রম। আমি অবৈধ কোন কাজ করি না। আমার বৈধ ফাইল ছাড়তে সরাসরি তিনি আমার কাছে টাকা চেয়েছেন। কি আর বলবো। এসব মেনে নেয়া যায় না।’

শুনেছি তিনি এমন কাজ অনেকের সাথেই করছেন। আমি চোখে দেখিনি। অপর একজন ব্যবসায়ী অবশ্য বলেন, এখানে শুধু তাজিম স্যারের দোষ দিলে হবে না। উপর থেকেই তাকে নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ফাইল ছাড়তে নিষেধ করা আছে। তাহলে তিনি কি করবেন?

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

হরমুজ প্রণালিতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে ইরান

বেরোবির সাবেক ভিসি কারাগারে

বটির কোপে মা খুন, শিক্ষক ছেলে পুলিশ হেফাজতে

১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চুক্তি স্বাক্ষর

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ: সেতুমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে রণতরীসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কক্সবাজারের রামুতে ৭০ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার

দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক-সহ ৪ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

ওয়ারীতে অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল এক যুবকের।