টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Tuesday , 19 May 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী ‘গুলি করেছি মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
May 19, 2026 6:05 pm

‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন এভাবেই চিকিৎসককে শাসিয়েছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন এক সাক্ষী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ষষ্ঠতম সাক্ষী তিনি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়ায় একটি বাড়ির দারোয়ান হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, আমি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র-আন্দোলন দেখতে যাই। বাজারে যেতেই বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে ছাত্রদের ওপর গুলি করতে দেখি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন। এসব দেখে ভয়ে বাসার দিকে রওনা হই। তখন পেছন থেকে আমার কোমরের নিচে একটি গুলি লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় প্যান্ট খুলে নিজের গুলিবিদ্ধের ক্ষতস্থানটি দেখান তিনি।

সাক্ষী আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে আমাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান কিছু লোক। ওই দিন চিকিৎসা হলেও ২০ জুলাই রাতে আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ ওই দিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের লোকজন। তারা বলেছিলেন—‘এদের গুলি করা হয়েছে মরেনি, এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’। এরপর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি। বাসায় ফিরে আসার পর আমার বাসায় আসেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বলা হয়, ‘তুমি গুলি খেয়েছো, এই এলাকায় থাকতে পারবে না’। তবে এলাকার নির্দলীয় একজন আমাকে ভরসা দেন। পরবর্তী সময়ে আমি নিজ খরচে ফরাজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউরকে দায়ী করেন সাক্ষী। বর্তমানে কোনো কাজ করার সক্ষমতা নেই বলেও জানানো হয়। একইসঙ্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িতদের বিচার দাবি করেন এই সাক্ষী।

এ মামলায় মোট আসামি চারজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবককে হত্যা

হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা,ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

জাতিসংঘে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালী খোলার প্রস্তাবে ভেটো রাশিয়া-চীন-ফ্রান্সের

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করেছে সরকার: চিফ হুইপ

কুমিল্লায় র‍্যাবের পৃথক অভিযানে পিস্তল-গাঁজাসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের জুম্মান কীভাবে পৌঁছালেন মার্কিন সেনাবাহিনীতে?

রাজশাহীতে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ পুলিশের ওসি আটক

হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ১ ডিসেম্বর

সাভারে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার