পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত হয়েছেন। গত চার বছর দুই মাসে মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত এলাকায় ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অসতর্কতা ও বেপরোয়া চালনার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার এবং ট্রাফিক আইন ও সড়কের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ির মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বেপরোয়া ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের শীর্ষ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটাররা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের সব সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ করে যথাযথ আইন প্রয়োগ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক-চালক ও যাত্রীদেরও আরও সচেতন হতে হবে।



















