টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Wednesday , 2 September 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্বল করা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
September 2, 2026 11:29 pm

“দেশের অর্থনৈতিক খাতে চলমান সংকটের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে, বেসরকারি জীবনযাত্রায় আয় না বাড়লেও খরচ বাড়বে, যা সামাজিক বৈষম্য ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেবে”
— নাজের হোসাইন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

“দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা”
— রুহুল কবির রিজভী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বিএনপি

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

“দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে এবং অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য খাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার”
— তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্র

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পায় বিএনপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি। তবে ক্ষমতায় ফেরার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই নানা সমস্যার মুখে পড়েছে দলটি। ইতোমধ্যেই ৪৮ বছর পূর্ণ করে ৪৯ বছরে পা রেখেছে দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি দমন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। এখন সেই অগ্রাধিকারের বাস্তব ফলাফল দেখানোর পাশাপাশি সরকারকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সংস্কার, দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সক্রিয়তা এবং পররাষ্ট্রনীতির জটিল সমীকরণ। বিশেষ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও প্রশাসনে সমন্বয়ের বিষয়গুলো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে সরকারি চাকরিনজীবীদের পে-স্কেল ঘোষণা করায় অর্থনৈতিক খাতে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণ এখনও সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে দেশকে স্বনির্ভর করা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে এবং অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ও জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময় পার করেছে দলটি। গত ১ সেপ্টেম্বর দলটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এর আগে সময়ের ব্যবধানে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দেশ ও দলের দায়িত্বে আসে পরিবর্তন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পর দলটির চেয়ারপারসেনর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার সহধর্মীনি আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রাজপথে ফিরে আসে বিএনপি। ওই বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সোচ্চার হয়ে ওঠে বিএনপি। এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া না ফেরার দেশে পাড়ি দিলে দলের হাল ধরেন তারেক রহমান। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার গঠনের পর ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি সরকার। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো আলাদা আলাদা নয়; একটি সংকট অন্যটিকে আরও তীব্র করে তুলছে।

জ্বালানি সংকট শিল্প ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায়, সেটি আবার মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি করে। মূল্যস্ফীতি মানুষের অসন্তোষ বাড়ায়, আর সেই অসন্তোষ রাজনৈতিক আন্দোলনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা আবার বিনিয়োগ ও প্রশাসনের ওপর আস্থা কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে দৃশ্যমান চাপ এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাস। গত আগস্টে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোরতা আরোপ করতে হয়েছে এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে গড়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। জুলাইয়ে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আংশিকভাবে টার্মিনালটি চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এলএনজির এশীয় স্পট মূল্যও সংঘাতের আগে তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ২৩.২০ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ হয়েছে। অর্থাৎ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা দিয়ে এই সংকট সমাধান করা যাবে না। সরকারকে একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ, এলএনজি আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকি সামলাতে হবে।

তারা বলেন,
মূল্যস্ফীতির হার কমেছে-এটি সরকারের জন্য ইতিবাচক খবর। জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে, জুনে যা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার কমা আর বাজারদর কমা এক বিষয় নয়। গত কয়েক বছরে পণ্যের যে উচ্চমূল্য তৈরি হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি থাকবে বাজার। সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ হবে-সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, সিন্ডিকেট ও মজুতদারি ঠেকানো, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তার অভিঘাত নিয়ন্ত্রণ করা।

এছাড়া অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুলাই ২০২৬ শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার; বিপিএম৬ হিসাবে তা ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্সেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন; জুলাই-আগস্টে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। রপ্তানিতেও আগস্টে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে; মাসটিতে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কিন্তু এই ইতিবাচক প্রবণতাকে ধরে রাখতে হবে। কারণ আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি, জ্বালানি আমদানির চাপ এবং বিনিয়োগের গতি-সবকিছু মিলিয়ে সরকারের সামনে বড় আর্থিক ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা রয়েছে।

এছাড়া নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজি, সংঘাত বা অপরাধের অভিযোগ উঠলে সরকারের জন্য সেটি দ্বিগুণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বিরোধীদের অভিযোগ মোকাবিলার পাশাপাশি নিজেদের দলের ভাবমূর্তিও রক্ষা করতে হয়। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপির কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের আশ্রয়দাতা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্য বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আর দলীয় সংস্কৃতি পরিবর্তন করা এক বিষয় নয়।

এদিকে, ডা. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তী সরকারের সময় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে এসে ঘাঁটি গেড়েছে মেগাসিটি রাজধানী ঢাকায়। এতে বিব্রত সাধারণ জনগণসহ সরকারও। তবে রাজধানীর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

একদিকে সড়কের শৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ জরুরি; অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, হঠাৎ উচ্ছেদ বা নিষেধাজ্ঞা দিলে এটি কেবল পরিবহন সমস্যা থাকবে না। বরং মানুষের জীবন-জীবিকা, স্থানীয় রাজনীতি ও নগর অসন্তোষের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। ফলে সরকারের প্রয়োজন হবে নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, গতিসীমা, নির্দিষ্ট সড়ক ব্যবহারের বিধান এবং ধাপে ধাপে বৈধতার কাঠামো তৈরি করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সামনে আরেকটি বড় প্রশ্ন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকা অবস্থায় দেশে-বিদেশে তাদের সাংগঠনিক যোগাযোগ কতটা সক্রিয়, সেটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। গত ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এফসিসি সাউথ এশিয়ার একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে অনুষ্ঠানটি হয়নি। সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক এমপি সেলিম মাহমুদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

তবে আওয়ামী লীগ বলেছে, অনুষ্ঠানটি দলীয় আয়োজন ছিল না এবং দলটির কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা এতে ছিল না। এই ঘটনাকে তাই সরাসরি ভারতের নীতিগত পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত, বিশেষ করে শেখ হাসিনার আগের রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে। সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনের শাসন, রাজনৈতিক অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানও সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও এটি কেবল একটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। সরকারকে এখানে রাজনৈতিক আবেগের পরিবর্তে আইনি কাঠামোকে সামনে রাখতে হবে। কোনো প্রত্যাবর্তন হলে তার ব্যবস্থাপনা যেন আইন ও আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী হয়, এটাই সরকারের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসলে বিরোধী দল বা কোনো একক সংকট নয়, একসঙ্গে বহু সংকট সামলানোর সক্ষমতা প্রমাণ করা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক-সব ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর আন্তঃনির্ভরতা রয়েছে। নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাকে নিয়ে অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাটি ভারতের অবস্থান বদলের নিশ্চিত প্রমাণ নয়।বরং এটিকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখাই বেশি সতর্ক পর্যবেক্ষণ। ঢাকার জন্য মূল প্রশ্ন হবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কি আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক থাকবে, নাকি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে নতুন সম্পর্ক তৈরি হবে?

অন্যদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিঠি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ট্রাম্প চিঠিতে তারেক রহমানের সঙ্গে ‘খুব বেশি দূরে নয়’ এমন ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ‘বোয়িং উড়োজাহাজ’ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এটি কেবল ব্যক্তিগত কূটনৈতিক যোগাযোগ নয়; এর সঙ্গে বাণিজ্য, বিমান চলাচল, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্কের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখানেই সরকারের আরেকটি পরীক্ষা। বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত যেন শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যের বিষয় না হয়; সেটিকে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন সক্ষমতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তাদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক হলে সেটি সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় কূটনৈতিক মঞ্চ তৈরি করবে। তবে বৈঠকটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উপস্থাপনের যে কোনো প্রচেষ্টা সরকারের জন্য কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। আবার দেশের ভেতরে মাজার, বাউল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক-সিনেমা কিংবা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেটিও দ্রুত আন্তর্জাতিক আলোচনায় চলে আসে। সেক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে প্রচারযুদ্ধ নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর হামলা হলে দ্রুত বিচার, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করা এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী পথ।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকর করা।

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সামনে এনেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কার শুধু বদলি-পদায়ন দিয়ে হয় না। দরকার হয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি; মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়; দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা; সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা; রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন; মাঠ প্রশাসনে জবাবদিহিতা এবং নাগরিক সেবায় ডিজিটাল ও সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা। সরকার যদি প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার বানায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য দুর্বল হবে।

রাজনৈতিক-সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১. জ্বালানি নিরাপত্তা: গ্যাস, এলএনজি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। ২. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতাকে স্থায়ী করে সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। ৩. আইনশৃঙ্খলা: অপরাধ, চাঁদাবাজি, দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

৪. দলীয় শৃঙ্খলা: বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দলীয় পরিচয়কে আইনি সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার না করা। ৫. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও আমদানি ব্যয় সামলানো। ৬. প্রশাসনিক সংস্কার: রাষ্ট্রযন্ত্রকে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। ৭. আওয়ামী লীগ প্রশ্ন: রাজনৈতিক অধিকার, বিচার, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। ৮. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ ছাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

৯. যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব: নতুন কূটনৈতিক সুযোগকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া। ১০. জনআস্থা: ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করা। তাদের মতে, সরকারের সব কর্মকাণ্ডে দেশের জনগণ এখনও সন্তুষ্ট নন। কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

এদিকে, বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, সরকার নতুন এসেছে, সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রের

প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার এবং দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলাসহ বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘদিনের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এই পর্যায়ে এসেছে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। বিচার ও আইনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঠিক করে রাষ্ট্র মেরামত করা চারটি খানি কথা নয়। তিনি বলেন, দেশে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঘটছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই উগ্রবাদের উত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিরি অনেক উন্নতি হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে।

সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ বলছেন, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের চরম ব্যর্থতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকা বদলেছে। অনেকেই এখন জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়েছেন। এ কারণে দল ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য কতটা থাকছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দল ও সরকার একাকার হয়ে গেছে, এ কথা ঠিক নয়। দল ও সরকার এক বিষয় নয়। সরকার পরিচালনা করছেন দলের নেতারা, কিন্তু দল তার নিজস্ব জায়গায় আছে। বরং ক্ষমতায় আসার পর নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে বিএনপি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপিকে আরও ভালো করতে হবে। রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র না থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও এই পে স্কেল শ্রমবাজারের সিংহভাগ জুড়ে থাকা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের আয় না বাড়লেও খরচ বাড়বে, যা সামাজিক বৈষম্য ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। নানবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভঙুর অর্থনীতি এবং দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ঢাকা–পাবনা ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের

ফিলিস্তিনে মুসলিমদের জন্য বন্ধ ইব্রাহিমি মসজিদ, কারফিউ জারি

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত

ন্যায়বিচারই শেষ কথা: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে

দেশের ৪ বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস,নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

কুমিল্লায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা

কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বাহার, সাধারণ সম্পাদক জীবন

পল্টনে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুয়েছেন এক প্রবাসী

লালবাগে পূর্ব শত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা