নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১৯৯২ সালের মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত মিরপুরের পুনর্বাসন প্লট এখনো অবৈধ দখলে। নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৬ বছরেও জমিটি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনের এফ ব্লকের কলওয়ালা পাড়াস্থ ৯২ থেকে ১০৫ নম্বর প্লট—মোট প্রায় ১.০৭০৮ একর জমি—এখন ‘স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেট’ নামের চারতলা কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ দখলদাররা এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পূর্ব পর্যন্ত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তিতু ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন লিটু মার্কেটের ৩০৫টি দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করতেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে লিটু-তিতু গ্রুপ আত্মগোপনে গেলেও পরবর্তীতে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। একই সময়ে আরও দুটি গোষ্ঠী মালিকানা দাবি করে মাঠে নামে।
বর্তমানে জমিটির নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে তিনটি প্রভাবশালী গ্রুপ—লিটু গ্রুপ, ফখরুল ইসলাম ফরহাদ গ্রুপ ও সামসাদ আরা সাথী গ্রুপ। তিনটি পক্ষই দোকানভাড়া তুলছে এবং নিজেদের ‘মালিকানা’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
মার্কেটের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়,
লিটু গ্রুপ: তার সহযোগী আহমেদ আলী প্রেম কিছু দোকানের ভাড়া তোলে, যা পরবর্তীতে লিটু > শাহাদাত বাহিনী > থানা ও ডিসি অফিস পর্যন্ত পৌঁছায়।
ফখরুল ইসলাম ফরহাদ গ্রুপ: সংগৃহীত ভাড়া প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুর রহমান > শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন গ্রুপ > স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী > থানা—এই চক্রে প্রবাহিত হয়।
সামসাদ আরা সাথী গ্রুপ: ভাড়া সরাসরি থানা ও ডিসি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়া মার্কেটটির নিয়ন্ত্রণে মিরপুরের প্রায় ১০ জন ভুয়া সাংবাদিক জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের সহায়তায় তারা দখল বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে।
অভিযোগ আছে, সামসাদ আরা সাথী মার্কেটটি নিজের নামে নিতে গৃহায়ন কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এর আগে গত বছর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রাক্কলন অনুমোদন করা হলেও কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর গৃহায়ন উপবিভাগ ঢাকা-১ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে মার্কেট উচ্ছেদের জন্য অনুরোধ জানায়। তবে ‘অদৃশ্য’ কারণে এখনো উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-সরকারি সম্পত্তি থেকে মাসে ৩৫ লাখ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে, এবং কেনই বা এত শক্তিশালী এই দখলদারি চক্র?



















