সিরাজগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসন মুলত বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা আর এনায়েতপুরের ২ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২০ জন। নির্বাচনে প্রার্থীতা করছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হেভি ওয়েট প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম -ধানের শীর্ষ। তিনি বিজয়ী হলে, তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় মন্ত্রী হবার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জামাতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম জামাতের জেলার একজন সাধারণ নেতামাত্র।
পাশাপাশি এলাকায় অভিযোগ উঠেছে উক্ত আলী আলম নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করেন। এব্যাপারে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত আলী আলমের এলাকার লোকেরা বলতে পারেনা ওনি কোন কলেজ এর অধ্যক্ষ ছিলেন? বিষয়টি এলাকার কেউ জানেনা। মোহাম্মদ রায়হান ইাসলাম তামাই, চানমিঞা সূর্বন সারা ও নুরল আমিন মোল্লা ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জানান, আলী আলম এমনিই অধ্যক্ষ লিখেন। আমরা শুনেছি তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে ২/১ বছর চাকুরী করেন। এরপর প্রতিষ্টান টি বন্ধ হলে চাকুরী ছেড়ে দেন।
এলাকাবাসী দাবি তুলে যে, মানুষ নিজেকে ভুয়া অধ্যক্ষ বানিয়ে প্রচার প্রচারনা চালায় তার কাছে এলাকবাসি কি ভাবে নিরাপদ? ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ভোট করছেন হাজী নুরুন নবী- পাখা মার্কা। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম জামাত- দাঁড়ি পাল্লা। এছাড়াও জাতীয় পার্টি লাঙল ও সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থী রয়েছে। তবে ভোটের মাঠে ধানের শীর্ষ,দাঁড়ি পাল্লা ও পাখা মার্কার অবস্থান রয়েছে।
মাঠ জরীপে দেখা গেছে আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পক্ষে ধানের শীর্ষেরের জন সর্মথন দিন দিন বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি সমর্থনে জামাত প্রার্থী বিভিন্ন কারনে পিছিয়ে পড়ছে। এর কারন অনুসন্ধানে জানাযায়, সম্প্রতি জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা সহ বিভিন্ন নেতার নারীকে জড়িয়ে ভাইরাল ভিডিও এবং কট্ট ইসলাম পন্থী হওয়া ও ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী মনোভাব ৩০ লক্ষ শহীদ ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত হরন।
শহীদ বিরঙ্গনাদের মহান ত্যাগ তুচ্ছ করায় প্রভাব পড়ছে। এছাড়া ও জামাত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম বিগত দিনে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও এলাকায় কোন উন্নয়ন করতে পারেনি।
তবে জামাতের কিছু নির্বাচনি কৌশল প্রচারে প্রথম দিকে কিছুটা এগিয়ে ছিল। যেমন, জামাতে ভোট দিলে আল্লাহ রসুল খুশি হবেন ও জান্নাতে যাওয়া সহজ হবে ইত্যাদি। কখনো সাধারন মানুষ কে বুঝানো হচ্ছে। জনগনকে বোঝানো হয় আপনারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কে অতিতে দেশ চালানোর ক্ষমতা দিয়েছেন। এবার একটি বারের জন্য জামাতকে সুযোগ দিন। এ যেন, সারা জীবন গাড়ীর চালক এর পিছেন বসেছেন, এবার প্যাসেন্ঞ্জার কে গাড়ী চালানোর সুযোগ দিন। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অভিজ্ঞতা ছাড়া, গাড়ী চালনো মানেই – নিশ্চিত দূর্ঘটনা! তবে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে মানুষের ভুল ভাঙ্গতে শুরু করছে।
বিএনপির প্রার্থী ও কর্মীরা আশঙ্কা করছে, জামাতের মুখোশ উম্মোচন শুরু হওয়ায়। তারা ভোট বানচালের জন্য নতুন কৌশলে ভোটের দিন গোলমালের চেষ্টা করতে পারে। ইতিমধ্যে তারা তাদের নির্বাচনি জনসভায় জনগন কম পাওয়ায় অন্য আসন হতে ভাড়া করে লোক সমাগম করছে। সচেতন মহল জানায় হাত পাখা জামাত জোট হতে বেরিয়ে আসায় জামাতের জন্য বিশেষ ক্ষতির করন হয়েছে। কারন এই আসনে হাত পাখার প্রায় ১০/১৫ হাজার ভোট রয়েছে। ইসলামি আন্দোলন অর্থাৎ চরমরাই পীর জামাত জোট হতে বেরিয়ে স্বতন্ত্র ভোট করছে। ফলে জামাত উক্ত ভোট বঞ্চিত হবে।
ইতিমধ্যে গত ৩০ জানুয়ারি এ আসনের চৌহালী উপজেলায় জামাতের ১ টি জনসভায় দেখা যায় অন্য আসনের জনগন এমনকি নাবালকসহ প্রায় হাজার দেড়েক জনসমাগম ঘটেছে। সেদিন ব্যাপক খিচুড়ি আয়োজন হলেও চৌহালী উপজেলার জনগন তেমন চোখে পরেনি।
এ রিপোর্ট প্রদান পর্যন্ত সরজমিনে জরিপে ধানের শিষের সমর্থক অনেক বেশি পাওয়া গেছে। এ আসনে মুলত ধানের শীষ বনাম দাঁড়ি পাল্লার ভোট যুদ্ধ হবে বিষয়টি নিশ্চিত। ঘটনা যাই হোক শেষ খেলায় ১২ ফেব্রুয়ারি কার কপাল খুলবে সেটা ভোটাররাই নির্ধারণ করবে।


















