টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Tuesday , 3 February 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার চরে তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে কৃষকের

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
February 3, 2026 12:26 pm

নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ কৃষকদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা বালুচর এখন সবুজ লতায় ছেয়ে গেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেচ, পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলার তিস্তার বাঘের চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

এ বছর তিস্তার চরাঞ্চলে মূলত স্যান্ডবার পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নদীর বালুময় জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে জৈব সার ও প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে চারা রোপণ করা হয়। বালুমিশ্রিত জমিতে পানি জমে থাকে না এবং মাটির ভেতরে বাতাস চলাচল ভালো থাকায় তরমুজের শিকড় দ্রুত ছড়াতে পারে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, চরাঞ্চলের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনেক কৃষক গম, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আয়ের সুযোগ।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তার চর এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, তিনি ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত গাছ ভালো রয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বছর ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ভালো লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর তিনি ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন।

কৃষকরা জানান, এ বছর টানা ১৫ দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকায় মৌসুমের শুরুতে চারা বৃদ্ধিতে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম দফায় তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় দফায় রোপণ করা জমির তরমুজ পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজারে সরবরাহ করা যাবে। যদিও কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় নিয়মিত জমির দেখভাল করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১ থেকে ২ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে চরাঞ্চলের কৃষকদের আয় বাড়বে। পাশাপাশি চাষাবাদ, ফসল সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষি অধিদপ্তরের ডিমলা উপজেলা কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, তিস্তার চরে তিনজন প্রদর্শনী কৃষকের মাধ্যমে স্যান্ডবার পদ্ধতিতে প্রায় ২৫ কৃষক ৩০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন। প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চরের প্রধান সমস্যা সেচ। চলতি মৌসুমে ওই কৃষকদের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্প ও ফিতা পাইপ বিতরণ করা হবে। ভবিষ্যতে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে স্যান্ডবার পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কুমিল্লায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

জাপানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির আশঙ্কায় ইরানে হামলা জোরদার করছে ইসরায়েল

টিকা নিতে অনাগ্রহে হামের বিস্তার: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল, ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

নাসিরনগরে ৩ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন ও মাদক বিরোধী সেমিনার

মোহাম্মদপুরে ছিনতাই করার সময় দুই ছিনতাইকারী আটক

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

জ্বালানিসংকটে জাহাজের ভাড়া বেড়েছে ২০ শতাংশ