টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Thursday , 26 March 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়ায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে নিমজ্জিত চার মরদেহ ও ১১ জন জীবিত উদ্ধার

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
March 26, 2026 6:17 am

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, নদী থেকে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন তারা। তবে প্রথমে সরকারিভাবে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হলেও পরে চার মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়।

এছাড়া স্থানীয়রা ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে এসব নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের তিন নম্বর পল্টুনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ারা কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়েছে সেখানে অত্যন্ত গভীর। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাস বা কোনো যাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি।

একটি সূত্র জানায়, দুপুর দুইট ১০ মিানিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে ৫৬ জন যাত্রী ছিলো। যাদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিল।

রাজীব নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মারাত্মক আহতাবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। বাকিরা এখনও নিখোঁজ।

স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি নদীতে পড়ার পরপরই জানালা দিয়ে পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী কোনোমতে বের হতে পেরেছিলেন।

দুর্ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ১০ থেকে ১২ বছরের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শিশুটি জানায়, সে তার মায়ের সঙ্গে বাসে ছিল। তবে তার মা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত এবং চার জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি নদীর প্রায় ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে আছে। বাসটিকে টেনে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে হামজা। এছাড়া মানিকগঞ্জ, আরিচা ও ঢাকা থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত আটটা পর্যন্ত ডুবে বাসটিকে টেনে তোলা যায়নি। দৃশ্যমান হয়নি উদ্ধার কাজও।

এদিকে উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই পদ্মা পাড়ে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস বইছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে নদীর উত্তাল ঢেউ ও অন্ধকারে উদ্ধার কাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত