নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা হলেন এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, উপজেলার ‘ভাগসুন্দর-বিশা’ সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহে গেলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাইডওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। তিন নম্বর ইটের খোয়া, মরিচা ধরা পুরোনো রড এবং স্বল্পমাত্রায় সিমেন্ট ব্যবহারের কারণে কাজ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ ধসে পড়ছে।
এ ছাড়া গাইডওয়ালের নিচ থেকে গভীর করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে তা দিয়েই সড়ক ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ বলেন, অনিয়মের বিষয়ে গত তিন দিন ধরে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমারের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে কার্যালয়ে গিয়ে দেরির কারণ জানতে চাইলে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম ও কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত তাঁদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
কাজী রহমান বলেন, ‘ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আমাকে “চুপ কর” ও “বের হয়ে যাও” বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের রয়েছে। বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা ও সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনা সুশাসন ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।



















