প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি মহল এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং অনেক দূরে গিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর কিছু সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের একটি অংশ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিএনপির রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, যারা একসময় টিকেট বিক্রি করে রাজনীতি করেছে, জনগণের ম্যান্ডেট তাদের পছন্দ নয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তারা বিএনপিকে বলছে ফ্যাসিবাদের দোসর, কিন্তু ৫ তারিখের পর তারাই ফ্যাসিবাদকে ক্ষমা করে দিয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক দূরে গিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে মিটিং করে- বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির মূল শক্তি জনগণ এবং দলটি কখনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করে না। জনগণের সমর্থন নিয়েই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠী বা শক্তিকে জনগণের শান্তি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না এবং অতীতে যেভাবে দীর্ঘ ১৭৩ দিন হরতাল পালন করে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয় দেখিয়ে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের মানুষকে আর দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুখতে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালানো হতে পারে, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার যেকোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। দীর্ঘ সময় ধরে যারা ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়েছে, তারা জনগণের কোনো প্রকৃত উন্নয়ন করেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলটির ক্ষমতার একমাত্র উৎস হলো দেশের সাধারণ মানুষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শুরু করা জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিগত ২০ বছরে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাদের পরিবর্তে বর্তমান সরকার এখন মানুষের সরাসরি উপকারে আসে এমন সব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বিগত দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতা-কর্মীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অসংখ্য নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগ, নিপীড়ন এবং বছরের পর বছর মিথ্যা মামলার ঘানি টানার বিনিময়ে আজ দেশে গণতন্ত্র পুনরদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানোই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



















