ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি আইসিইউতে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দালালদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে । এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
শাহাদাত হোসাইন (নাঈম) গ্রুপ ও আব্দুল্লাহ আল মাহিম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।বুধবার দিবাগত রাতে সোয়া ১২টার দিকে এই সংঘর্ষ হয়। জানা যায়,শাহাদাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং শ্যামলীর সিটি কেয়ার হাসপাতালের আব্দুল্লাহ আল মাহিম ।
সে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে দাবি তার। রাতে আধিপত্য বিস্তার এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে রোগী ভাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শাহাদাত ঢাকা মেডিকেলের ২১১ ও ২১২ এবং জরুরী বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে শ্যামলীর রূপায়ন টাওয়ারে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে রোগী দেয়। আব্দুল্লাহ শ্যামলী সিটি কেয়ার হাসপাতালের মালিক এবং সে ঢাকা মেডিকেল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শাহাদাত হোসেন নাঈম ঢাকা মেডিকেল থেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজস্ব একটি গ্রুপ তৈরি করেন। তাদের কথার বাইরে গেলে বিভিন্ন সরকারি স্টাফদের মারধর এবং হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শাহাদাতের গ্রুপে আরো রয়েছে-নোমান,সবুজ, আবির, জাহিদ,নাঈম ও রাজ্জাকসহ আরও অনেকে।
সিটি কেয়ার হাসপাতালের আব্দুল্লাহ আল মাহিমের গ্রুপের রয়েছে-রুবেল,লিমন,শামীম,রাকিব,নাহিদ, সিরাজ ও রাফি। বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায় মারামারির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, শাহাদাত গ্রুপ ও আব্দুল্লাহ গ্রুপ রাতে ২১১ ও ২১২ এবং জরুরি বিভাগে মহড়া দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। মারামারিতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে ঢাকা মেডিকেলে তারা কেউ চিকিৎসা নেয়নি। এসব রোগী ভাগিয়ে নেওয়া কে কেন্দ্র করে প্রায়ই হাসপাতালের ভিতরে ও বাইরে মারামারির মতো ঘটনা ঘটে। তবে এই বিষয়ে হাসপাতালের প্রশাসনের কোন ভূমিকা দেখা যায় নাই। হাসপাতালে চলতি বছরের মার্চ মাসে যৌথ বাহিনীর অভিযান হলেও রাঘববোয়ালরা ধরা পড়ে নাই। এসব রাঘববোয়াল ধরতে হলে রাত্রে অভিযান দিতে হবে না হলে এসব দালাল নির্মূল করা হাসপাতাল থেকে সম্ভব নয়। পরে উভয়পক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং নতুন বিল্ডিং এর সামনের দিকে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা আসতে আসতেই উভয় পক্ষই হাসপাতাল থেকে চলে যায়। আমরা শুনেছি শাহাদাত ও আব্দুল্লাহ এই দালালদের দুই গ্রুপে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে ওই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পর হাসপাতাল থেকে চলে যা ।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও ওয়ার্ড মাস্টার গুলো যদি শক্তভাবে প্রতিহত করতে তাহলে এইসব দালালরা হাসপাতলে আসতে পারত না । তাদের জন্যই সাধারণ রোগীরা হয়রানি শিকার হচ্ছেন। কমিশন বাণিজ্যের কারণে তারা কিছু বলছেন না।



















