রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ৫৬ নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে ‘সুলতান’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভদ্র চেহারার আড়ালে তিনি একজন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত জমি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, জমি কেনাবেচার খবর পেলেই তিনি দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার উপস্থিতির পর সেই জমির স্বাভাবিক লেনদেন ব্যহত হয় এবং অন্যকোনো ক্রেতার পক্ষে জমি কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে কম দামে জমি কিনে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সুলতান জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি ব্রোকারেজ, নামজারি, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবার কাজও করে থাকেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজে তিনি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কম খরচে সম্পন্ন হওয়ার মতো কাজও তার মাধ্যমে করাতে গেলে কয়েকগুণ বেশি খরচ হয়।
আরও জানা যায়, জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে তিনি কখনো দালাল, আবার কখনো নিজেই ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে এলাকায় তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই তাকে এক নামে চেনেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কৌশলে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন তিনি। ফলে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সম্প্রতি আলীনগর এলাকায় একটি ৫ তলা ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১.৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ওই ভবনের বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩ লাখ টাকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেটে রাখা হয়, যার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি জমিজমা ক্রয়-বিক্রয়ের হোতা সুচতুর সুলতান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সুলতান ও তার সহযোগী আনসার জমি কেনা-বেচার শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের মাধ্যমে এলাকায় দালাল নিয়োগ করে জমির তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সুলতান একজন প্রভাবশালী হলেও তার কার্যক্রম নিয়ে জমি ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ জনমনে নানা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি জানান, ভুক্তভোগী কারও কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















