টুডে সময় সংবাদ Today Somoy Sangbad - গণমানুষের কণ্ঠস্বর
Friday , 18 September 2026 | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুল হাতছাড়া হলো মমতার

প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
September 18, 2026 4:30 pm

১৯৯৮ সালে পথ চলা শুরু করেছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এখন ২০২৬ সাল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হবে জোড়া ঘাসফুল প্রতীক ছাড়াই। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার আসনে উপনির্বাচনের আগে এ রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ফলে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আপাতত থাকছে না দলের প্রতীক জোড়া ঘাসফুল, ২৮ বছর আগে যে প্রতীক নিজে এঁকেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল ‘বিদ্রেহী নেতা’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারীরা। মূলত তাদের আবেদনের জবাবেই গত কাল বৃহস্পতিবার রাতে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচনে জোড়া ঘাসফুল প্রতীকের ব্যবহার না হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের মূল নেতা কে, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি এবং দলের তহবিলের মালিকানা কার হাতে থাকবে— এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিললেই প্রতীকের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন হবে। সব দল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। তৃণমূলের মমতাপন্থি এবং বিদ্রোহী— এ দুই পক্ষও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে; কিন্তু কোনো পক্ষের প্রার্থীরা এখনও জানেন না যে তারা কোন প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভাঙ্গন দেখা দেয় তৃণমূল কংগ্রেসে। সেই নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮০টি আসনে বিজয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীরা; তবে ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই দলের ভেতর বিদ্রোহ করে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই ঋতব্রতকে সমর্থন করেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে বর্তমানে তিনি পশ্চিমঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা।
সেই থেকে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতাপন্থি ও ঋতব্রতপন্থি নেতা-কর্মীদের মধ্যে। উভয়পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপাতত কোনও পক্ষকেই আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও আপাতত কোনো পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে না। দুই শিবিরকে নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে হবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যাবে।প্রতীক হিসেবে জোড়াফুলও ব্যবহার করতে পারবে না কালীঘাট কিংবা ঋতব্রতের শিবির। উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে।

কমিশন অবশ্য এ-ও জানিয়েছে যে তৃণমূলের প্রতীক বা দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দলের স্বতন্ত্র পরিচয়ের জন্য তিনি নিজেই একটি অর্থবহ প্রতীকের স্কেচ তৈরি করেন, যা পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়।

এই প্রতীকে সবুজ ঘাসের বুক চিরে দুটি ফুলকে ফুটে থাকতে দেখা যায়। ‘তৃণমূল’ শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার এবং মাটির কাছাকাছি থাকার রাজনীতি তুলে ধরতেই ঘাসফুলের এই ধারণাটি বেছে নিয়েছিলেন মমতা

প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত প্রায় তিন দশক ধরে এই ‘জোড়াফুল’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন এবং তার জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সাধারণ ভোটারদের কাছে দলের পরিচিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সহজবোধ্য প্রতীকটি বড় ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : আনন্দবাজার

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

পিজি হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নাসিরনগরে নবজাতক ছেলে শিশুর দত্তক নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

রাজধানীর বনশ্রীতে এক স্কুল ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

দেশের সব গণ্ডগোলের রিমোট কন্ট্রোল করছে দিল্লি: গোলাম পরোয়ার

পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মামলা, চালক-সহকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

রৌমারীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড ও নির্দেশনা প্রদান

আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে জনসমর্থনে এগিয়ে আমিনুর রহমান

সিরিজ জয়ের মিশনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

রাজধানীতে দু’টি হোটেলে ২ চীনা নাগরিকের মৃত্যু, পলাতক আরেকজন

অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ,‘ওসমান হাদিকে, নেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ারে