বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)ঢাকা মেট্রো – সার্কেল–১,এর অধীনে লাইসেন্স বোর্ড জোয়ারসাহারাস্হ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গড়ে উঠেছে ।
দালাল মিরাজ ও হাসানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গ্রাহকদের অভিযোগ বিভিন্ন বিআরটিএ দুদক অভিযান চালালেও কিন্তু লাইসেন্স বোর্ড গুলোতে কেন অভিযান চালায় না এর কারণ কি? এদের মধ্যে কে এই মোটরযান পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদ।সে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অটেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন । তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের দোসর মোটরযান পরিদর্শক রাশিদুজ্জামান রাশেদ এখনো বিআরটিএ তে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জোয়া সাহারাস্হ লাইসেন্স বোর্ডে লাইসেন্স প্রার্থী ভুক্তভোগীদের অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ।
তারা বলেন, বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো – সার্কেল-১. লাইসেন্স বোর্ডের পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদ দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে লাইসেন্সের প্রার্থীকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেন । আবার টাকা না দিলে লাইসেন্স প্রার্থী কে ফেল করিয়ে দেয় । তারা কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন । এভাবেই রাশেদ দালালদের মাধ্যমে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে । জোয়া সাহারা অফিসের লাইসেন্স বোর্ডের কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে মোটরযান পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদ লাইসেন্স বোর্ডের একক ক্ষমতা দেখিয়ে দালাল মিরাজ ও হাসান সহ একাধিক দালালের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে ওইসব দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
অল্প দিনেই তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। লাইসেন্স বোর্ডে পরীক্ষা ও ভাইভা পাস করার পর গাড়ি চালানোর সময় পাশ করলেও দালালদের ক্লিয়ারেন্স না থাকলে গাড়ি ট্রেনিং পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। অনেক সময় দালালদের মাধ্যমে শুধু বায়োমেট্রিক্স পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষার্থীকে বাসায় চলে যেতে বলেন । অর্থ বিনিময়ে প্রার্থী হয়ে গেলেন পাস। পরবর্তীতে তারা বাকি পরীক্ষা না নিয়েও পাস করিয়ে দেন। এ বিষয়ে একাধিক প্রমাণ প্রতিবেদকের নিকট রয়েছে। জোয়াসাহারায় বিআরটিএ এখনো আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অনেক আমলাদের সিন্ডিকেটের দোসরা বহাল তরিয়তে এখনো রয়েছেন। বর্তমানে রাশেদুজ্জামান রাশেদ মিরপুর এলাকায় আলিশান ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন । এমন অভিযোগ রয়েছে দালাল চক্ররা তার বাসায় গিয়ে তদবির করেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের হয়েও তিনি এখনো বিআরটিএতে চাকুরিরত রয়েছেন ।
রাশিদুজ্জামান রাশেদ চাকুরির জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে । বিআরটিএ লাইসেন্স বোর্ডের প্রতিদিন শতাধিক লাইসেন্স প্রাপ্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে , লাইসেন্স প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে হয়রানি শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী আবুল হোসেন, মারুফ আহমেদ, কামরুল হাসান, নাহিদ আহমেদ ও আবুল কালামসহ আরো অনেকে মোটরযান পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীরা জানান, রাশেদুজ্জামান রাশেদ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করেন। যেকোনো লাইসেন্স প্রার্থী পরীক্ষা দিতে আসলে পরীক্ষার মাঝে তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফেল করিয়ে দেয়। আবার দালালের মাধ্যমে টাকা দিলে পরে পরীক্ষা পাশ হয়ে যায়। গ্রাহক হয়রানি করে বিআরটিএ প্রতিষ্ঠানের ও সরকারকে দুর্নামের ফেলার চেষ্টা করচ্ছেন রাশেদুজ্জামান রাশেদ গং রা। সরকারকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ ।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, বিআরটিএ’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এইসব বিষয় নিয়ে কোন ধরনের মনিটরং না করার কারণে মোটরযান পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা একের পর এক দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মোটরযান পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান রাশেদকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি কল হলে তিনি কেটে দিতেন। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএ’র পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ গ্রাহকরা মুখে মুখে বলেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন না। আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গ্রাহকরা লিখিত অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারপরও আমরা মনিটিং করছি।



















